প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অফিসারদের পেনশন–সহ অবসরকালীন সুযোগসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাকবিতণ্ডা হয়েই চলেছে। ডিরেক্টরেট অফ পেনশন প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইনশিওরেন্স নাকি পেনশন–সহ যাবতীয় সুযোগসুবিধা চূড়ান্ত করবে। তবে এবার সিদ্ধান্ত বদল করল উচ্চশিক্ষা দপ্তর (Bikash Bhavan)। জানা গিয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ডিপিপিজির মাধ্যমে না গিয়ে অবসরকালীন সুবিধা এবং পেনশন অনুমোদন করতে পারবে আগের নিয়ম মেনেই।
পেনশন-গ্র্যাচুইটি নিয়ে সমালোচনা
গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকাশ ভবনের বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাঞ্চ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ১ অক্টোবর থেকে পেনশন–সহ যাবতীয় সুযোগসুবিধা চূড়ান্ত করবে ডিরেক্টরেট অফ পেনশন প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইনশিওরেন্স ওরফে DPPG। সে ক্ষেত্রে রাজ্যের ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক–শিক্ষাকর্মী পেনশন ও গ্র্যাচুইটি — সবই প্রভিশনাল বা অস্থায়ী হিসেবে পাবেন। সম্প্রতি পেনশন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কলকাতা ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিকাশ ভবনে আবেদন করা হয়েছিল। এমতাবস্থায় অধ্যাপকদের পেনশন প্রকল্প শিথিল করা হল।
অবস্থান পরিবর্তন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের
গত শুক্রবার, উচ্চশিক্ষা দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সেখানে জানিয়েছে, ২০২৫ এর অক্টোবর থেকে আগামী জুন পর্যন্ত যে সব কর্মী অবসর নিয়েছেন বা নেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি DPPG থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র না আসে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগের নিয়মেই অবসরকালীন সুবিধা এবং পেনশন অনুমোদন করবেন। তবে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। কর্মীদের অস্থায়ীভাবে দেওয়া পেনশনের পরিমাণ চূড়ান্ত পেনশনের চেয়ে বেশি হলে, সেই অতিরিক্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মীর গ্র্যাচুইটি থেকে কেটে নেওয়া হবে। যদি কর্মীর ওই গ্র্যাচুইটির টাকা দিয়েও যদি ঘাটতি পূরণ না হয়, তবে ভবিষ্যতের পেনশন থেকেও তা উদ্ধারের সংস্থান রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা অবধি এরা কাটতে পারবে না টিকিট! আজ থেকে নিয়ম বদলাল রেল
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রবীণ অধ্যাপক জানিয়েছেন, ‘অবসরকালীন বিষয়টি ডিপিপিজি-তে পাঠানোর ফতোয়া ২০০০ সালে বাম আমলে চালু হয়েছিল তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সেটা কার্যকর করতে বর্তমান সরকারেরই বা এত উৎসাহ কেন?এটি সম্পূর্ণ আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ। আমরা মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর উপরে পূর্ণ আস্থা রাখি যে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখবেন।” JUTA-এর সাধারণ সম্পাদক পার্থ প্রতিম রায় বলেন, “৩০ জুন পর্যন্ত পেনশন প্রকল্পে শিথিলতা থাকলেও, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আইন অনুসারে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ থাকুক যাতে কর্মচারীরা প্রাপ্য অবসরের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।”