অনাহারে মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মীর, তিন বছর বন্দি থেকে কঙ্কালসার তার মেয়েও

Uttar Pradesh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মাহোবা জেলায় ঘটল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিজের বাড়িতেই প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্দি এবং অনাহারে রেখে দেওয়া হয়েছিল এক অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মী এবং তাঁর মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়েকে। জানা যায়, অভিযুক্ত তাঁদেরই এক গৃহ সহায়ক দম্পতি। অবশেষে বৃদ্ধের মৃত্যুর পর সেই নৃশংস ঘটনা সামনে এল। মৃত ব্যক্তির নাম ওমপ্রকাশ রাঠোর। বয়স ৭০। তাঁর ২৭ বছরের মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শিরা বলছে, মেয়েটিকে একটি অন্ধকার ঘরে রাখা হয়েছিল এবং তাঁর শরীর একেবারে কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছিল।

মৃত্যুর পর ফাঁস হল নির্মম সত্য

সোমবার ওমপ্রকাশ রাঠোরের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়িতে আসেন তাঁর কয়েকজন আত্মীয়। তবে বাড়িতে ঢুকেই তাঁরা চমকে যান। দেখা যায়, ওই বৃদ্ধার দেহ অস্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ে রয়েছে, যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসার পর মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ওমপ্রকাশের মৃত্যু হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে। কিন্তু পরিবার অভিযোগ করছে, দীর্ঘদিন ধরে অনাহার এবং শারীরিক অবহেলাই তাঁর মৃত্যুর আসল কারণ।

আরও পড়ুনঃ হাওড়া কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপারের টাইমটেবিল দিল রেল, জানুন ভাড়া এবং রুট

পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৬ সালে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ওমপ্রকাশ রাঠোর তাঁকে দেখাশোনা এবং মেয়ের যত্নের জন্য ওই দম্পতিকে গৃহ সহায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেছিল। দীর্ঘ আট বছর ধরে তারা ঐ বাড়িতেই থাকছিল। তবে অভিযোগ ওঠে, ধীরে ধীরে সম্পত্তির লোভে ওই দম্পতি বাড়ি দখল করতে শুরু করে। আর বৃদ্ধ এবং তাঁর মেয়েকে নিচতলায় কয়েকটি ঘরে আটকে রেখে তারা নিজেরা উপর তলায় স্বাচ্ছন্দে বসবাস করত।

আরও পড়ুনঃ বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল প্রকল্প নিয়ে বড় মন্তব্য মমতার

পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত দম্পতি কোনও আত্মীয়কে বাড়িতেই ঢুকতে দিত না। তারা জানাতো, ওমপ্রকাশ এবং তাঁর মেয়ে কারও সঙ্গে দেখা করতে চান না। এমনকি বৃদ্ধের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। বাড়ির বাইরে নিজেরাই নামের ফলক লাগিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বন্দনা সিং জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আর আত্মীয়দের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে কেউ তাঁর এবং তাঁর মেয়ের খোঁজ রাখেনি। পুলিশের এক আধিকারিক বলেছেন, যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে, সেগুলির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

1 thought on “অনাহারে মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মীর, তিন বছর বন্দি থেকে কঙ্কালসার তার মেয়েও”

Leave a Comment