সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে এবার প্রকাশ্যে সবথেকে বড় স্বীকারোক্তি জানালেন পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ নেতা হাফিজ আবদুল রউফ। সম্প্রতি এক জঙ্গি সমাবেশে দাঁড়িয়ে রউফ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ভারতের এই অভিযানে মুরিদকে এলাকায় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে গিয়েছে এবং বহু জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। আর তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এমনকি পাকিস্তানের অন্দরে অস্বস্তির হওয়া বইছে।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বড়সড় স্বীকারোক্তি
এদিন হাফিজ আবদুল রউফ বলেন, এটি ছিল বিশাল হামলা। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, ভারতের হামলা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল আর যথেষ্ট কার্যকরও ছিল, এবং শুধুমাত্র প্রতীকী নয়, বরং বাস্তবে জঙ্গি পরিকাঠামো সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, রউফ নিজেই মুরিদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত লস্কর কমান্ডার ছিলেন। আর ওই এলাকাতে অপারেশন সিঁদুরের সময় লস্কর-ই-তৈবার সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে রউফ আরও স্বীকার করেছেন যে, অপারেশন সিঁদুরে বহু জঙ্গি নিহত হয়েছে। এমনকি হামলার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, লস্করের সংগঠন কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। তাঁর এই স্বীকারোক্তিকে ভারতের নিরাপত্তা মহল অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের সবথেকে বড় প্রমাণ বলেই মনে করছেন।
এদিকে শুধু তাই নয়, হাফিজ আবদুল রউফ আরও এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনের সময় চিন পাকিস্তানকে সামরিকভাবে সহায়তা করেছিল। আর চিনের সাহায্যে পাকিস্তান ভারতের গতিবিধি সম্পর্কে প্রতি মুহূর্তে তথ্য পেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাফিজ আবদুল রউফের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে ভারতের পক্ষে বড় অস্ত্র হতে পারে। আর সবথেকে বড় বিষয়, পাকিস্তান পরোক্ষ ভাবে স্বীকার করে নিল যে, ভারত জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং তা সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিপা ভাইরাসকে রুখতে মানতেই হবে এই নিয়ম, কড়া নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
কে এই হাফিজ আবদুল রউফ?
জানিয়ে রাখি, লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার এই হাফিজ আবদুল রউফ। এমনকি আমেরিকার দ্বারা আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবেই তিনি চিহ্নিত। পাশাপাশি অপারেশন সিঁদুরে নিহত জঙ্গিদের নামাজে জানাজা পড়ানোর সময় প্রকাশ্যে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। আর ওই সময় তাঁর পিছনে পাক সেনার একাধিক আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন।