অপারেশন ২.০ এর সংকেত? ভারত সীমান্তে ‘গোল্ডেন ঈগল এক্সারসাইজ’ মহড়া পাকিস্তানের

Pakistan War Exercise

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের কি যুদ্ধের ইঙ্গিত? ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে আবারও বাড়ছে নিরাপত্তার উদ্বেগ। এরই মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি যাচাই করতে বিরাট মহড়া (Pakistan War Exercise) চালাল সন্ত্রাসের দেশের বিমান বাহিনী। ‘গোল্ডেন ঈগল এক্সারসাইজ’ নামের এই মহড়া ঘিরে প্রতিরক্ষা মহলে এবার নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাহলে কি ভবিষ্যতে সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান? এবার কি অপারেশন সিঁদুর ২.০ হতে চলেছে?

যুদ্ধ প্রস্তুতির জন্য বিরাট মহড়া

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘এক্সারসাইজ গোল্ডেন ঈগল’ বিমান বাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ আর অপারেশনাল দক্ষতা যাচাইয়ের একটি বিরাট পরীক্ষা। প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চারদিনের সংঘর্ষ অর্থাৎ অপারেশন সিঁদুরের পর এটাই ছিল পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রথম বড় সামরিক মহড়া।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা পাকিস্তানকে নতুন করে আবার ভাবাতে শুরু করছে। ওই অভিযানে ভারত পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। আর সেই সময় পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। এমনকি সবকিছুই গুঁড়িয়ে গিয়েছিল তা বলা যায়। আর পরবর্তীতে নির্ভুল বিমান হামলার সময়ও পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রতিরোধ সীমিত ছিল বলে প্রতিরক্ষা মহলের একাংশ মত প্রকাশ করছে।

মহড়ায় আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার

পাকিস্তানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মহড়া দুইপক্ষীয় যুদ্ধ পরিস্থিতি ধরেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে এআই নির্ভর নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক অপারেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার, দূরপাল্লার বিভিআর এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র ব্যবস্থা, প্রিসিশন স্ট্রাইক সক্ষমতা, এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম, এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং সাপোর্টকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এই মহড়ায়। আর মহড়ার কাইনেটিক ফেজে আধুনিক যুদ্ধবিমান ‘ফার্স্ট শুট, ফার্স্ট কিল’ কনসেপ্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও খবর।

আরও পড়ুন: কমিশনের বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘বি’ কর্মীদের ডেটাবেস বিকৃত করার অভিযোগ নবান্নের! জারি বিজ্ঞপ্তি

এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরোধে পাকিস্তানের প্রচলিত এয়ার ডিফেন্স যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। আর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদ ড্রোন যুদ্ধ কৌশলে আরও জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পাকিস্তান তাদের ড্রোন ভাণ্ডার দ্রুত বাড়িয়েছে। আর গোল্ডেন মহাড়াতেও ড্রোন অপারেশন অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন দেখার, তাদের এই মহড়ার আসল উদ্দেশ্য কী…

Leave a Comment