সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গত এক বছর ধরে রাষ্ট্রপতি শাসনে শাসিত হচ্ছে মণিপুর। তবে অবশেষে সেই রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটতে চলেছে। বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন যুমনাম খেমচন্দ সিং (Yumnam Khemchand Singh)। ফলে আপাতত তিনিই হতে চলেছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী (Manipur CM)। সূত্র অনুসারী খবর, নতুন সরকার গঠিত হলে কুকি সম্প্রদায়ের নেত্রী নেমচা কিপজেন মণিপুরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন।
দিল্লিতে বিজেপি বিধায়কদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
রিপোর্ট অনুযায়ী, মণিপুরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ ও সাংসদ সম্বিত পাত্র। বৈঠকে মোট ৩৫ জন বিজেপি বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। তবে অসুস্থতার কারণে ২ জন বিধায়ক সেখানে যোগ দিতে পারেননি বলে খবর।
এ বিষয়ে মণিপুরের বিজেপি বিধায়ক ঠকচম রাধেশ্যাম সিং নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচিত ও জনপ্রিয় সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দিকনির্দেশনা প্রয়োজন ছিল। যুমনাম খেমচন্দ সিং এর নেতৃত্বে আমরা রাজ্যের সমস্ত সমস্যার সমাধান খুঁজে পাব বলেই আশাবাদী।
কী কারণে সরকার ভেঙে পড়েছিল?
বলাবাহুল্য, মণিপুরে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকা সত্ত্বেও মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র হিংসার জেরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁর পদত্যাগের পর রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। তারপর থেকেই ঘটে একের পর এক হিংসা, হামলার ঘটনা। হাজার হাজার মানুষ বাড়িছাড়া হতেও বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন: পারফরম্যান্স, ক্যামেরায় সেরা! তবে গ্যালাক্সি S26-র ব্যাটারি দিতে পারে বড় ধাক্কা
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল এই রাজ্যে। এরপর ১৫ আগস্ট, ২০২৫-এ আরও ছয় মাসের জন্য সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার কারণে এবার নতুন সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিজেপি। প্রসঙ্গত, ৬০ আসনের মণিপুর বিধানসভায় বর্তমানে বিজেপি বিধায়ক রয়েছে ৩৭ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ৬ জন, নাগা পিপলস ফ্রন্টের বিধায়ক ৫ জন, কংগ্রেসের ৫ জন, কুকি পিপলস অ্যালায়েন্সের ১ জন, জেডিইউ-র ১ জন এবং স্বতন্ত্র বিধায়ক রয়েছেন ৩ জন।