অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, মেদিনীপুরের কৃষকের ছেলে পেলেন কোটি টাকার চাকরি

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সম্বল বলতে এক ফালি কৃষি জমি আর একটা ছোট বাড়ি। সেখানেই বাবা-মা, দিদি নিয়ে অভাবের সংসার। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে বলতে দিদি। টিউশন পড়িয়ে মাসে যে কটা টাকা আয় হয় তা দিয়ে চারজনের পেট চালানো আকাশের চাঁদ ধরার মতোই কঠিন কাজ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর 2 নম্বর ব্লকের বাড়বাশি গ্রামের সেই কৃষক পরিবারের ছেলে সুমন বেরা কোটি টাকার চাকরি পেয়েছেন (Success Story)। যেই ঘটনা শোরগোল ফেলে দেওয়ার মতোই। এদিকে, গ্রামের ছেলের সাফল্যে ইতিমধ্যেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বিধায়ক সহ পঞ্চায়েত প্রধান।

নিদারুণ অভাবের সংসারে আশার আলো দেখালেন সুমন

ছেলেবেলা থেকেই অভাবের সাথে ওঠাপড়া সুমনের। বাবা, অচল কুমার বেরা, একটা সময় কৃষিকাজ করে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিলেও বয়সের কারণে আজ আর মাঠে পরিশ্রম করতে পারেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা সুমনেরা তিন ভাইবোন। দুই দিদির মধ্যে একজনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে আগেই। অন্যজনের রোজগারেই এতদিন পেট চলত বাড়ির সকলের। স্থানীয় সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের তরফে রেশনের চাল সহ অন্যান্য সামগ্রী পান সুমনরা। এছাড়াও সরকারের তরফে ভাতা পায় সুমনের পরিবার। আর এই অভাবের সংসারে প্রদীপ হয়ে জ্বলে ওঠার দায়িত্বটা গিয়ে পড়েছিল সুমনের কাঁধেই।

ছেলেবেলা থেকে যে অভাবটা ঘুমোতে দেয়নি সুমনকে, পেছনে তাড়া করে বেড়ানো সেই দারিদ্রতাকে দূর করতে লেখাপড়াই যে একমাত্র হাতিয়ার সেটা বুঝে গিয়েছিলেন সুমন। ফলে, মেদিনীপুরের ছেলেকে আলাদা করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য বলতে হতো না। 2024 সালের অক্টোবর নাগাদ লিঙ্কডইনে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর এক সংস্থায় ইন্টার্নশিপের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন সুমন। জানা যায়, গত বছর মে মাসে বেঙ্গালুরুর ওই সংস্থা থেকে তিন মাস ইন্টার্নশিপ করে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। আর তারপরেই লিঙ্কডইন থেকেই বছরে প্রায় এক কোটি টাকার চাকরির অফার লেটার পেয়েছেন সুমন বেরা।

সূত্রের খবর, এক মার্কিন বহুজাতিক আইটি কোম্পানি থেকে কোটি টাকার চাকরির অফার পেয়েছেন সুমন। এদিকে, ছেলের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা-মা থেকে শুরু করে পরিবারের সকলেই। গ্রামের ছেলে সুমনের কোটি টাকার চাকরির খবর কানে পৌঁছতেই তাঁকে দেখতে বাড়বাশি গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশ থেকে শুরু করে দূর দূরান্তের আত্মীয়রা। জানা গিয়েছে, সুমনের নতুন চাকরি জীবনের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পিংলা বিধানসভার বিধায়ক অজিত মাইতি থেকে শুরু করে বাড়বাশি গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান সনাতন বেরা। দুজনেই সুমনের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ফুল এবং মিষ্টি দিয়ে সাধুবাদ জানিয়ে এসেছেন।

অবশ্যই পড়ুন: দলে নেই নয়নের মণি, ISL শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল মোহনবাগান!

বলাই বাহুল্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা সুমন বর্তমানে জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। অল্প বয়সে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে মার্কিন বহুজাতিক সংস্থা মাইক্রোসফটের অধীনস্থ লিঙ্কডইনে চাকরি পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত সুমনের কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকারাও। এ প্রসঙ্গে ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে সুমন জানান, সংস্থাটির তরফে বছরে প্রায় কোটি টাকা বেতনের চাকরির অফার লেটার পেয়েছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসেই কলেজ শেষ করে বেঙ্গালুরুর ওই সংস্থায় পাকাপাকিভাবে যোগ দেবেন বাংলার তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা সুমন বেরা।

Leave a Comment