অভিষেকের সভার আগেই ধূপগুড়িতে ঋণের দায়ে আত্মঘাতী কৃষক

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) লড়াই। প্রার্থীদের জেতাতে জেলায় জেলায় প্রচার করে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই মহারথী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এমতাবস্থায় ধূপগুড়িতে (Dhupguri) ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির ফলে ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দোইখাওয়া সেতু সংলগ্ন এলাকার কৃষক পরেশ সরকার আত্মহত্যা (Farmer Commits Suicide) করেন। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে আত্মঘাতী কৃষক

ঘটনাটি ঘটেছে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে। মৃত কৃষকের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলেন পরেশ সরকার। কিন্তু অক্টোবরের ভয়াবহ বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে চাষের জমিতে জল জমে ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে ধার-দেনা করে চাষ করছিলেন তিনি। কিন্তু, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং ঘূর্ণাবর্তের জেরে বিগত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং কালবৈশাখী ঝড়ে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় আলু সহ বিভিন্ন চাষের ফসল। এদিকে এখনও সেই ধারের টাকা শোধ হয়নি, তাই এত কিছুর চাপ নিতে না পারে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এই কৃষক।

কৃষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ

ধূপগুড়িতে কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আত্মহত্যার খবর পেয়ে সেখানকার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করার আশ্বাস দেয় পরিবারকে। মৃতের ছেলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন তাঁর বাবা পরেশ সরকার। সকালে বাড়ির পাশের একটি বাঁশবাগানের গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলের কাছেই একটি কীটনাশকের বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আজই ধূপগুড়িতে সভা অভিষেকের

উল্লেখ্য, আজই এলাকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সভা রয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি ক্রমাগত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে আক্রমণ করে চলেছে। যদিও চুপ করে নেই শাসকদলও। যদিও কৃষকের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এর আগেও গোঘাটের মথুরা এলাকায় এক ৩৩ বছর বয়সী এক আলু চাষী গলায় দড়ি দিয়ে বাড়িতেই আত্মহত্যা করেছিলেন। কয়েক বছর ধরেই আলু চাষ করে আসছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন ভালো ফলন হলে এবং দাম পেলে আলু বিক্রি করে ঋণ শোধ করবেন। কিন্তু তা আর না হওয়ায় ঋণের দায়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

আরও পড়ুন: বাংলায় প্রথমবার ৬০ ফুট উঁচু রাম টাওয়ার, প্রতিদিন বাজবে হনুমান চল্লিশা

কয়েক মাস আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা-১ ব্লকের রাঙামাটি গ্রামে স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে, ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন রাখাল আড়ি নামে এক ভাগ চাষি। কিন্তু ফলন হলেও পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় তিনি আত্মঘাতী হয়েছিলেন। খবর পাওয়ার পরেই ওই আলু চাষির পরিবারকে নগদ দু’লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য করেন তৃণমুল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই টাকা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সূর্যকান্ত দোলই ও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমুল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী মৃত চাষির স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

Leave a Comment