আইপ্যাক মামলায় হোঁচট খেল রাজ্য! ইডির বিরুদ্ধে করা সমস্ত FIR-এ স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

IPAC Raid Case

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আইপ্যাক কাণ্ডে (IPAC Raid Case) একের পর এক বিতর্ক যেন লেগেই রয়েছে। একদিকে মমতা সরকার, অন্যদিকে পাল্টা সুর তুলেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এমতাবস্থায় আইপ্যাক কাণ্ডে ইডি বনাম রাজ্যের সংঘাত নিল এক নয়া মোড়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের দায়ের করা FIR-গুলির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।

মামলায় গুরুতর প্রশ্ন আদালতের

সূত্রের খবর, আজ সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক তল্লাশি অভিযান মামলা ওঠে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানে শুনানি চলাকালীন দুই বিচারপতির বেঞ্চ একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুতর প্রশ্ন তোলে। জানতে চাওয়া হয় ইডি বা অন্য কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার স্বতন্ত্র তদন্তে রাজ্য কি হস্তক্ষেপ করতে পারে? পাশাপাশি আদালতের তরফে জানানো হয়, কোনও রাজনৈতিক দলের কাজে তদন্তকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ যেমন ঠিক নয়, তেমনি কোনও তদন্তকারী সংস্থা নিয়ম মেনে তদন্ত করলে রাজ্যও তাকে বাধা দিতে পারে না।

FIR- গুলির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ

শুনানিতে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ইডির দাবির দিকে ইঙ্গিত করে রাজ্যের আইনজীবীকে জানিয়েছিলেন, “আপনাদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। যদি সত্যিই নথি সংগ্রহের উদ্দেশ্য থাকত, তা হলে তো কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত হত। কিন্তু এখানে তো কিছুই বাজেয়াপ্ত হয়নি।” সেক্ষেত্রে কপিল সিবাল বলেন, “ছবি তোলা যেত। কিন্তু বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনই ছিল না।” সেই সময় ইডির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা সৎ উদ্দেশ্যে এবং আইন মেনেই তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, ইডি অফিসারদের মনোবল ভাঙতে এবং তাঁদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই FIR করা হয়েছে। এরপরেই ED আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরগুলির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন: SIR শুনানি ঘিরে ভয়ংকর তাণ্ডব চাকুলিয়ায়! আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল বিডিও অফিসে

শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ইডির বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর করা যাবে না। এছাড়াও ওই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ ও যাবতীয় নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলার সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন বিচারপতিরা। এক্ষেত্রে রাজ্যের তরফে ৩ সপ্তাহের সময় চাওয়া হলেও বিচারপতিরা ২ সপ্তাহের সময় দিয়েছেন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

Leave a Comment