প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আবার জিতবে বাংলা কর্মসূচি নিয়ে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা করলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসতে। আসন্ন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রণ সংকল্প সভা থেকে নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুধু তাই নয় সোমবার SIR-এর লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ সংক্রান্ত নির্দেশকে হাতিয়ার করেই নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে আক্রমণ করলেন অভিষেক।
ভোটে হারানোর হুংকার অভিষেকের
রিপোর্ট মোতাবেক, সুপ্রিম কোর্টে SIR-এর নির্দেশ আসার পরেই বারাসতের জনসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে হুংকার তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিজেপির এসআইআরের খেলা শেষ। আজ কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটে হারাবো। যারা বাংলার মানুষের ভাতে মারতে চেয়েছিল এবং ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাদের গালে কষিয়ে চড় মেরেছে। এই জয় মা মাটি মানুষের, এই জয় বাংলার। তাহলে কার ক্ষমতা বেশি মোদিজী? ১০ কোটি মানুষ না বিজেপির জমিদার?”
ভোটে ৫০ এর নীচে নামানোর চ্যালেঞ্জ বিজেপিকে
ভোটে আসন জেতা নিয়ে গেরুয়া শিবিরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, গতবারে ওদের ৭০ এর বেশি আসনে জিতিয়েছিলেন বলে ওরা বাংলার প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। যার অর্থ বিধানসভা ভিত্তিক প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। এবারে ওদের ৫০ এর নীচে নামান। তাহলেই ওদের অহঙ্কারের পতন হবে।” এমনকি নির্বাচনে ভোটারদের পরামর্শ হিসেবে অভিষেক জানিয়েছেন যে, “ বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে এলে টাকা নেবেন, কিন্তু ভোট দেবেন জোড়া ফুলেই।” তাঁর মতে, এই নির্বাচন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য নয়, বরং বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য।
আরও পড়ুন: SIR নথি হিসাবে গণ্য করতে হবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
প্রসঙ্গত, গতকাল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিঙ্গুরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন। তুলেছিলেন ‘পাল্টানো দরকার’ স্লোগান। এবার সেই ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপিকে কড়া নিশানা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি। এটা উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ বা গুজরাট নয়। এই মাটি স্বাধীনতা আন্দোলন আর নবজাগরণের পথ দেখিয়েছে। সেক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার ঠিকই, কিন্তু বাংলা বদলাবে না। বদলাবে দিল্লি আর গুজরাট”।