প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনই ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের সম্মুখীন হল কলকাতাবাসী। রবিবার ভোর ৩টে নাগাদ আনন্দপুরে, রুবির আরবানার পিছনে একটি ব্রান্ডেড মোমো ও কেক প্রস্তুতকারক সংস্থার ওয়ারহাউসে আগুন লাগে (Anandapur Fire Incident)। ভিতর একাধিক দাহ্য বস্তু থাকায় নিমেষেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসে পোড়া গন্ধ। কান পাতলে স্বজন হারানোর আর্তনাদ শিনা যায়। ভয়ংকর এই অগ্নিকাণ্ডে ১২টি ইঞ্জিনের চেষ্টাতেও আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেই খবর। কিছু কিছু জায়গায় সোমবার রাত পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে আগুন জ্বলেছে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ১০ টি দেহ
রিপোর্ট মোতাবেক রবিবার ভোর রাত থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছিল দমকলকর্মীদের। কিন্তু সোমবার সকালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। ভিতরে এমন ভয়ংকর দাহ্য বস্তু ছিল যার ফলে আগুন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছিল না, রাতেও বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে আগুন জ্বলছিল। আর এই অগ্নিকাণ্ডে রাত ৯টা নাগাদ ৭ দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার আগে উদ্ধার হয়েছিল ৩টি দেহাংশ। অর্থাৎ মোট ১০টি দেহ মিলল ঘটনাস্থল থেকে। অনুমান মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে।
২০ জন কর্মীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ
ঘরনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ১০ টি দেহের মধ্যে সবকটি মানুষের দেহ নাকি এর মধ্যে অন্য প্রাণীর দেহ রয়েছে সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ। তার জন্য সে সকল দেহগুলোকে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে কমপক্ষে ২০ জনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ তাঁরা সকলেই রবিবার রাতে এই কারখানায় ছিলেন। রিপোর্ট মোতাবেক, এই গুদামটি ছিল শুকনো খাবারের। সেখানে উপস্থিত ছিল সফট ড্রিংকের বোতল। পাশাপাশি শুকনো খাবারের প্যাকেটও ছিল। আর সেখানেই লেগে গিয়েছিল আগুন।
আরও পড়ুন: DGP নিয়োগে নতুন জটিলতা! এবার ক্যাটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে UPSC
আনন্দপুরের খাবারের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল অর্থাৎ সোমবার রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর সেখানে যান এলাকার বিধায়ক ফিরদৌস বেগম। রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা। তৃণমূলকে নিশানা করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন পশ্চিমবঙ্গে কোনও সরকারই নেই। তাই এমন ঘটছে। একই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারও।