বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হামলা চালিয়ে ভেনেজুয়েলার দখল নিয়েছে আমেরিকা। অপহরণ করা হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুর সহ তাঁর স্ত্রী ও অন্যান্য সঙ্গীদের। তাতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে বিশ্ব মহলে। এ নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব পরিষ্কারভাবে জানান, তাঁর আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই (Donald Trump On International Law)। এক কথায়, আন্তর্জাতিক আইন প্রত্যাখ্যান করলেন মার্কিন শাসক।
আচমকা গর্জে উঠলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট
বৃহস্পতিবার, নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক আইন প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত কিনা। সে প্রসঙ্গে মার্কিন শাসক স্পষ্ট জানান, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাইছি না। এই নীতিগুলোকে শুধুমাত্র আমার নিজস্ব নৈতিকতাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ” ট্রাম্পের দাবি, তিনি সব নিয়ম-নীতি মেনেই চলেন.. তবে আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা কী তার উপর নির্ভর করে সবটা। এদিন বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর ব্রুট ফোর্স বা পাবলিক শক্তি ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
অবশ্যই পড়ুন: IPL-র ৫ প্লেয়ারের বেতনের থেকেও কম দামে PSL এ বিক্রি হল দুই দল
বলাই বাহুল্য, ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ যুদ্ধ মনোভাব আরও অনেকটাই বেড়েছে বলেই মনে করছেন সমালোচকরা। তাঁদের দাবি, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ এবং দেশটির প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করার মতো ঘটনা জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যা যেকোনও রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখন্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা বল প্রয়োগের হুমকিকে নিষিদ্ধ করে। তবে এসব সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প কিন্তু নিজের জায়গায় অনড়। এসবের মাঝে গত রবিবার এক বিদেশি মিডিয়া চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকার রদ্রিগেজকে নিশানায় রেখে বলেছিলেন, তিনি যদি সঠিক কাজ না করেন তবে অনেককে এর বড় মূল্য চোকাতে হবে।
অবশ্যই পড়ুন: দিল্লিতে সাংসদদের হেনস্তা নিয়ে ফুঁসে উঠলেন অভিষেক, দিলেন রুখে দাঁড়ানোর বার্তা
উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোররাতে ভেনিজুয়েলায় জোরালো হামলা চালায় আমেরিকান সেনাবাহিনী। দেশটির রাজধানী কারাকাস এবং ভেনেজুয়েলার সামরিক ঘাঁটিগুলিতে দাবানলের গতিতে ঘটে বিস্ফোরণ। সেই হামলার কিছু সময়ের মধ্যেই কারাকাস থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে স্বস্ত্রীক অপহরণ করে মার্কিন সেনা। আর তারপরই গলা ছাড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেন, আমেরিকা ভেনেজুয়েলা এবং তাঁর রাষ্ট্রপতির অন্যায় কর্মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।