প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অপেক্ষার অবশেষে অবসান, রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা তৃতীয় সরকারের আজ প্রকাশিত হতে চলেছে অন্তর্বর্তী বাজেট। দুপুর আড়াইটেয় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সেই বাজেট পেশ করবেন। তাই এই নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা চরমে। প্রকল্পে আর কত বিনিয়োগ হবে বা সরকারি কর্মীদের কত শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি পাবে তাই নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন, আর এই অবস্থায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বিধানসভায় কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
এজেন্সি ইস্যু নিয়ে শুভেন্দুকে কটাক্ষ মমতা
বিধানসভায় আজ বাজেট পেশের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দেওয়ার সময় শুরুতেই বাঙালি অস্মিতায় শান দিলেন। তিনি বলেন, অন্য রাজ্যে বাঙালিকে টার্গেট করা হচ্ছে। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করছে না। এরপরই শুভেন্দু অধিকারীকে চরম কটাক্ষ করেন মমতা। এজেন্সি ইস্যু তুলে বলেন, ”যতই এজেন্সি লাগান বাংলার মানুষ আপনাদের ধিক্কার জানায়। ডবল ইঞ্জিন সরকারে দিকে তাকিয়ে দেখুন, দিল্লির দিকে তাকিয়ে দেখুন। আপনারা জিরো ছিলেন, জিরোই থাকবেন, বাংলা হিরো ছিল, হিরো থাকবে।” এখানেই শেষ নয় অনুপ্রবেশ নিয়ে শুভেন্দুকেও কড়া আক্রমণ করেন মমতা।
উঠে এসেছে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ
বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেট করে জানান, “জাতীয় গ্রন্থাগারে পেগাসাস লাগিয়েছেন অনুপ্রবেশের কথা বলছেন? একটা রোহিঙ্গা খুঁজে পেয়েছেন? রোহিঙ্গা আছে মিজোরাম, অসমে। সেখানে কেন এসআইআর করা হয়নি?” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “আপনারা কি বাংলাকে দখল করবেন? কাকে জমি দিইনি? বিএসএফ, সিআইএসএফ, সিআরপিএফ, যারা জমি চেয়েছে দিয়েছি। কিন্তু ৫০ কিমির ভিতরে পর্যন্ত চাইছে। ১৫ কিমি পর্যন্ত যত জমি চান, দিয়ে দেব। ২০২৪ সালে এই ভোটার লিস্টে ভোট হয়েছে। তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলুন। আমরা কোর্টেও জিতি, ভোটেও জিতি। ”
আরও পড়ুন: DA রায় কার্যকর না হলে নজিরবিহীন আন্দোলন, হুঁশিয়ারি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের
প্রসঙ্গত, আনন্দপুরের নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে কম চর্চা হয়নি, বিরোধী ধরণী তার শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন এই বিপদের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হননি, এবার সেই নিয়েও জবাব দিলেন তিনি। মমতা জানান, “ওদিন ২৬ শে জানুয়ারি ছিল। আগে থেকেই অনেক কর্মসূচি থাকে। সারাদিন ব্যস্ততা থাকে। আমি না গেলেও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে স্থানীয় বিধায়ক এবং অন্যরা গিয়েছেন। পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। সব ব্যবস্থা ছিল। শুনুন আমাদের নিন্দা করে কিছু হবে না। বাংলা হিরো ছিল হিরোই থাকবে।”