প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একের পর এক কেচ্ছা উঠে আসছে ফিডে। এতদিন সায়ক চক্রবর্তীর বিফ কাণ্ড নিয়ে একের পর এক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল আর এবার হট টপিক হয়ে উঠেছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ‘ননসেন’ ওরফে শমীক অধিকারী (Shamik Adhikari)। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠে এসেছে। তাই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দমদম এলাকা থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার আলিপুর আদালতে তোলা হয় তাঁকে। আর এই গোটা ঘটনায় মুখ খুললেন শমীকের বাবা।
শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ শমীকের বিরুদ্ধে
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২ বছর বয়সি এক তরুণীর অভিযোগকারীর দাবি, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে বন্দি করে রেখেছিলেন শমীক অধিকারী। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটেই আটকে রাখা হয় তাঁকে। অভিযোগকারিণীর আইনজীবী অভিষেক দে বিশ্বাস জানান, শমীক তাঁর পরিচিত বন্ধু। বাড়ি বদলের সময় সাহায্যের অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান শমীক। এরপরই তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। তরুণীর আরও অভিযোগ, শমীক নাকি তাঁর বাবা-মায়ের সামনেই মারধর করেন বান্ধবীকে। বাবা-মা কিছু বলতে এলে সবাইকে মেরে ফেলার অথবা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু এবার এই ঘটনায় বিরাট তথ্য ফাঁস করলেন অভিযুক্তের বাবা।
কী বলছেন শমীকের বাবা?
শমীকের বাবা এক সংবাদমাধ্যমে জানান যে, “ বিগত কয়েক মাস ধরে প্রায়ই ওই তরুণী চেকের ফ্ল্যাটে যাতায়াত করছিল, মাঝেমধ্যে আবার রাত কাটিয়েছিল। পাড়ার লোকেরাও জানে, সবই প্রমাণ আছে, আমাদেরও ওই মেয়েকে বেশ ভালই লেগেছিল। কিন্তু সেদিন কোথা থেকে কি হল বুঝতে পারছিনা। আমার ছেলে ওইদিন ফ্ল্যাট শিফট করছিল, তাই মালপত্র নিয়ে যাওয়ার ব্যাপার ছিল, এমন সময় ওই মেয়েটি ফুল নিয়ে এসেছিল। এবং ছেলেকে নতুন ফ্ল্যাট গোছাতে সাহায্য করেছিল। এরপর সেদিন মেয়েটার ফোনে শমীক কিছু একটা দেখতে পেয়েছিল, তারপরেই শুরু হয় ঝামেলা। মারামারি শুরু হলে আমি কোনওরকমে শান্ত করি পরিস্থিতি, সেদিন মেয়েটা থেকে গিয়েছিল বাড়িতে।”
শমীকের বাবা সাক্ষাৎকারে আরও বলেন যে, “পরেরদিন সকালেও দুজনের মধ্যে রাগারাগি মেটেনি, তারপর সব রাগারাগির মাঝে মেয়েটি বাড়ি চলে যায়। পরেরদিন আমরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে বলে আমার মনে ভালো নেই, আমি দিদুনের বাড়ি যাচ্ছি। তার পরে তাঁকে ফিন করলে একটি ছেলে থ্রেট দেয় এবং রাগারাগি করে, আমরা বললাম বন্ধুদের মধ্যে মন কষাকষি হয়েই থাকে সব মিটিয়ে নাও, এরপরেও মেয়েটি ভালোভাবে কথা বলছিল, কিন্তু হঠাৎ করে শুনছি মেয়েটি শমীকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছে।” তাঁর আরও দাবি মেয়েটি হয়তো কারো চাপে পড়ে এই কাজটি করেছে। তাই এখন আমি কোনো রাজনৈতিক কারণকে টেনে আনবো না, আমি নিজে একজন বামপন্থীর ছেলে, কিন্তু ওঁরা যেভাবে লেগেছে তাতে যদি এখন বিজেপির সাপোর্ট নিতে হয় তাহলে নিতে হবে।”
আরও পড়ুন: কলকাতা হাইকোর্টেও দুর্নীতির ছায়া! তদন্তের নির্দেশ বিচারপতির
উল্লেখযোগ্য বিষয়, মাত্র কয়েকদিন আগেই ‘বাটন’ নামে একটি ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন শমীক অধিকারী। তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন অনুরাগীরা। আর ঠিক কয়েকদিন পরে সেই মানুষটিই এখন গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার। এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শমীক অধিকারীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। শুক্রবার বেহালা থানা থেকে অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে শমীক জোর গলায় দাবি করেন, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”