বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দিল্লির এক পুরনো আর্থিক প্রতারণা মামলায় বৃহস্পতিবার I PAC এর অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অবশ্যই দাবি, কোনও রকম আর্থিক প্রতারণার ঘটনা নয় বরং তৃণমূল দলের প্রয়োজনীয় তথ্য হাতিয়ে নিতে এসেছিল ইডি! শুক্রবারই সেই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। আজ যাদবপুরে মিছিল সেরে জনসভায় যোগ দিয়ে মমতা একেবারে খোলাখুলি বললেন, গতকাল তিনি যা করেছেন কিচ্ছু ভুল করেননি।
I PAC কান্ডের প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন মমতা
বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর, শুক্রবার পথে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। যাদবপুরের 8B বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে পায়ে পা মেলান ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে অরূপ বিশ্বাস, টলিউড তারকা তথা সাংসদ দেব, অভিনেতা সোহম সহ তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়করা। তৃণমূলের র্যালিতে দেখা মিলল বাংলা টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ছোট পর্দার তারকাদেরও। এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ শেষ হয় তৃণমূলের বিরাট মিছিল। হাজরা মোড়ের কাছে মিছিল শেষ করে পরবর্তীতে জনসভায় যোগদান মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখানে গিয়েই সুর চড়ালেন তিনি।
অবশ্যই পড়ুন: ঘরে দুটো লাইট, লক্ষাধিক টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল মেটাতে জমি বিক্রি করলেন দরিদ্র দম্পতি
জনসভায় যোগ দিতেই মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “আমার নিজের দলকেই যদি রক্ষা করতে না পারি তাহলে মানুষের জন্য লড়ব কীভাবে! 2014 তে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় I PAC কাজ করেছিল। তবে প্রশান্ত এখন রাজনীতিতে ফিরেছে। তাই দায়িত্ব সামলাচ্ছে প্রতীক। ওদের আমরাও দায়িত্ব দিয়েছি। বিজেপি তো আগে খেতে পেত না, একটা বিড়িতে তিনবার টান দিত। আজ কি অহংকার! দাঙ্গাকারীরা আজ ক্ষমতায়।” মমতা আরও বলেন, “গোধরা, উন্নাও, হাতরাস ভুলে গিয়েছেন। BSF কাদের আন্ডারে, বর্ডারে দায়িত্বে কে।”
অবশ্যই পড়ুন: এক মাস উড়তে পারে আকাশে, শত্রুকে টাইট দিতে সৌরশক্তি চালিত ড্রোন কিনবে ভারত!
এদিন তৃণমূল সুপ্রিমোর সংযোজন, “বাংলার উপর এত হামলা কেন হচ্ছে? জোর করে মহারাষ্ট্রে ভোট জিতেছে ওরা। নির্বাচন কমিশন আমার ঘেঁচু করবে। তুমি আমাকে একদিন আটকাবে আমি 100 দিনের ফসল তুলে নেব। তুমি আমাকে জেলে ভরবে, আমি তোমাকে সারা পৃথিবীতে ভরে দেব। মনে রাখবে, সুস্থ বাঘের চেয়ে আহত বাঘ বেশি ভয়ঙ্কর।” এদিন বিজেপিকে একেবারে সরাসরি নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” বিজেপির সাথে আমরা ভদ্রতা করি। না হলে মুখে বলবো না আপনারা জানেন কী হবে। বলছে কয়লার টাকা। কে খায় অমিত শাহ। গদ্দার ওই টাকা পাঠান। সাথে জগন্নাথও আছে তো। ও একটা বড় ডাকাত! জগন্নাথ শুভেন্দু অধিকারীকে টাকা দেয়। শুভেন্দুর হাত থেকে অমিত শাহের কাছে টাকা যায়।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী একেবারে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশির মাঝে ফাইল নিয়ে এসে কিছু অন্যায় করেননি। তাঁর কথায়, “তুমি আমাকে খুন করতে এলে আমার আত্মরক্ষার অধিকার আছে। তুমি আমার অফিস থেকে সমস্ত তথ্য চুরি করছিলে। আমি যাওয়ার আগেই সাড়ে পাঁচ ঘন্টা ধরে চুরি করেছ…”