সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য (India-US Trade Deal) সম্পর্কে এবার নয়া মোড়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যের সমঝোতার ফলে এবার ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ থেকে নেমে ১৮ শতাংশে এসেছে। আর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়েছে ভারত। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। আর সেই আলোচনার পরেও শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় কোথায় দাঁড়াল ভারত?
বর্তমান শুল্কের দিকে তাকালে স্পষ্ট উঠে আসছে, নতুন চুক্তির ফলের রফতানির দৌড়ে ভারতের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। কারণ, বাংলাদেশের উপর ২০%, শ্রীলংকার উপর ২০%, পাকিস্তানে ১৯%, ভিয়েতনামে ২০%, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের উপর ১৯% শুল্ক ধার্য রয়েছে। তবে সেখানে ভারতের উপর মাত্র ১৮% শুল্ক আরোপিত। এই তালিকায় ভারত এখন বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় রফতানিকারক দেশগুলির থেকেও কম শুল্কের সুবিধা পাচ্ছে। এমনকি সবথেকে বড় পার্থক্য চিনের সঙ্গে। বর্তমানে আমেরিকায় চিনের পণ্যের উপর প্রায় ৩৪ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা রয়েছে, যা ভারতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
কীভাবে নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত?
আসলে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফোনালাপের পর এই শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার পারস্পরিক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে এবার ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। আর তা খুব শীঘ্রই কার্যকর হবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধা থেকেই তার অনুরোধে আমরা ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছি। তিনি আরও দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে আমেরিকা থেকে তেল আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত। সেই কারণে সম্মতি দেখিয়েছে ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার বদলে আমেরিকা থেকে তেল কিনবে ভারত! দেশে বাড়বে পেট্রোল-ডিজেলের দাম?
এদিকে শুল্ক কমানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, মেক ইন ইন্ডিয়া পণ্যের উপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই ঘোষণার জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তবে বলে রাখি, গত বছর আগস্ট মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক এবং ২৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে আরোপিত শুল্ক। সেই পরিস্থিতিতে ব্রাজিলও চাপের মুখে পড়েছিল। কিন্তু এখন ব্রাজিলের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক অপরিবর্তিত রয়েছে।