সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সকলের নজর এখন ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে (Union Budget 2026)। গোটা দেশের শিল্প এবং বাণিজ্যমহল অধীর আগ্রহে বসে রয়েছে নতুন ঘোষণা অপেক্ষায়। আর বাজেট পেশের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রত্যাশা। একের পর এক শিল্প সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এবার তাদের দাবির তালিকা পাঠালেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের কাছে। কী কী দাবি তুলে ধরা হল?
পরিকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিশেষ নজর
বিনিয়োগ সংস্থা 360 One এর প্রেসিডেন্ট অনু জৈন মনে করছেন, ২০২৬ এর বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এমনকি প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে। তাদের এই মন্তব্য সমর্থন করেছে FICCI। প্রাক বাজেট স্মারকলিপিতে তারা জানিয়েছে, এমন মূল্যধনী ব্যয় বাড়ানো দরকার, যা সরাসরি অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। আর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবে অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে, তাতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি তা বলা যায়।
আরও পড়ুনঃ কবে চালু হবে হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপারের বুকিং? মাথায় রাখুন এই কটি নিয়ম
ওষুধ শিল্পে সংস্কারের দাবি
দ্বিতীয়ত ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একাধিক দাবি উঠেছে। শিল্পমহল মনে করছে, গবেষণা এবং উন্নয়নে সরকারি সহায়তা করা উচিত। এমনকি ক্লিনিক্যাল রিসার্চের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি জিএসটি কাঠামো আরও যুক্তিসঙ্গত করতে হবে এবং নিয়মকানুন ও কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। এতে দেশের ওষুধ শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক ভাবে টিকে থাকতে পারবে।
আয়কর ব্যবস্থাকে সহজ করার সম্ভাবনা
আয়কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন বাজেটে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার আয়কর ব্যবস্থাকে আরও করদাতা বান্ধব করার দিকে নজর দিতে পারে কেন্দ্র সরকার। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের বাজেটে নতুন কর ব্যবস্থায় সীমা বাড়িয়ে বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত করা হয়েছিল। আর এবার তা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে অনুমান।
আরও পড়ুন: কাঁপাবে উত্তুরে হাওয়া, দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় সতর্কতা, আজকের আবহাওয়া
আসতে পারে নতুন ড্রোন স্কিম
বেশ কয়েকটি সূত্রের খবর, ২০২৬ এর বাজেটে নতুন একটি ড্রোন স্কিম ঘোষণা করা হতে পারে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আর এই প্রকল্প মূলত ড্রোন উৎপাদনে গবেষণা এবং উন্নয়নের উৎসাহ দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশীয় হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের উপরে জোর দেওয়া হবে। এমনকি কৃষি, প্রতিরক্ষা এবং ডেলিভারি পরিষেবা ভবিষ্যতে একাধিক খাতে গেমচেঞ্জার হয়ে দাঁড়াতে পারে।
MSME রফতানিতে ঋণ বাড়ানোর দাবি
আর্থিক পরামর্শদাতা সংস্থা ডেলয়েট ইন্ডিয়া মনে করছে, MSME গুলির জন্য রফতানি ঋণ বাড়া সবথেকে জরুরী। তাদের মতে, ভারতের মোট রফতানির ৪৬ শতাংশ আসে MSME থেকে। আর কৃষির পরে MSME দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাত। তাই তারা জানাচ্ছে, সহজে ঋণ, স্বল্প সুদের ফাইনান্সিং এবং কমপ্লায়েন্সের চাপ যদি কমে, তাহলে MSME অস্থিরতার মধ্যেও টিকে থাকতে পারবে। পাশাপাশি গ্রামীণ আয় বাড়বে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।