আরজি কর দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট ED-র, সন্দীপ ছাড়াও উঠল আরও ২ জনের নাম

RG Kar Financial Scam

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বেশ উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে উঠে পড়ে লেগেছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। আর এই আবহে ফের চর্চায় উঠল আরজি কর দুর্নীতি মামলা (RG Kar Financial Scam)। জানা গিয়েছে, আজ, কলকাতা নগর দায়রা আদালতের ইডির বিশেষ আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা করল ইডি। আর সেখানেই প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ছাড়াও নাম উঠে এল আরও ২ জনের নাম। পাশাপাশি হাজরা মেডিক্যালের নামও উঠে এসেছে চার্জশিটে।

ভোটের আবহে ফের আরজিকর

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। এরপরই আর জি কর মেডিক্যালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন হাসপাতালেরই প্রাক্তন নন মেডিক্যাল ডেপুটি সুপার আখতার আলি। সেই সময় সন্দীপকে প্রথমে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তিনি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। সিবিআইয়ের সেই মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। তার মাঝেই ইডি এই তদন্তভার নেই। সন্দীপদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় ইডি। আদালত অনুমতি দেয়। চলছিল একের পর এক চুলচেরা তদন্ত। এবার আদালতে জমা দেওয়া হলো প্রথম চার্জশিট।

প্রকাশ্যে এল প্রথম চার্জশিট

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তদন্ত মাধ্যমে জানতে পারে যে সন্দীপ ঘোষের সময়কালে বিভিন্ন টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি হাসপাতালের ভিতরে বেআইনি পার্কিং, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তাতেই নাম ওঠে বিপ্লব সিং ও সুমন হাজরার। অভিযোগ নিয়ম বহির্ভূতভাবে সন্দীপ ঘোষ টেন্ডার পাইয়ে দিতেন। তিনিই ঠিক করতেন কীভাবে কাকে টেন্ডার দেওয়া হবে। তাই সেই চার্জশিটে উঠে এল বিপ্লব সিং ও সুমন হাজরার নাম। এছাড়াও সুমনের মালিকানাধীন সংস্থা হাজরা মেডিক্যালকেও অভিযুক্ত হিসেবে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, যে সংস্থাকে বরাত দেওয়া হচ্ছে তার লাইসেন্স এক্সপায়ার হয়ে গেলেও টাকার বিনিময়ে সন্দীপ সেই সংস্থাকেই টেন্ডার দিত।

আরও পড়ুন: ১৭৭ বিধায়ক নিয়ে বুক ফুলিয়ে বিধানসভায় ঢুকবে বিজেপি, হুঙ্কার শুভেন্দুর

ED-র চার্জশিট অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে হাসপাতালের একাধিক ক্রয় ও পরিষেবা সংক্রান্ত চুক্তিতে নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠে এসেছে। আর সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় তদন্ত শুরু করে ইডি। ইতিমধ্যেই তদন্তে প্রাপ্ত নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই প্রথম চার্জশিট জমা করা হয়েছে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। এখন দেখার পালা আরজি কর দুর্নীতি মামলায় আর কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

Leave a Comment