বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতের কাছের বন্ধুর সাথে বিরাট চুক্তি স্বাক্ষর করল প্রতিবেশী বাংলাদেশ (Bangladesh-Japan Deal)। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, জাপানের সাথে প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ঢাকা। জাপানের রাজধানী টোকিওতে দুপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এই বিশেষ অর্থনৈতিক সমঝোতা চুক্তি। বলাই বাহুল্য, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারতের সাথে সম্পর্ক খুব একটা ভালো নেই ওপার বাংলার। সেই পর্বে দাঁড়িয়ে নয়া দিল্লির বন্ধু টোকিওর সাথে ঢাকার এই চুক্তি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষক মহল।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাপানের সাথে অর্থনৈতিক চুক্তিতে গেল বাংলাদেশ
শুক্রবার, বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন সহ বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান থেকে শুরু করে ওপার বাংলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের উপস্থিতিতেই জাপানের সাথে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছিল ঢাকা। এই চুক্তি দুই পক্ষের কাছে ঐতিহাসিক তার কারণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাপান এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
বিশেষ চুক্তির অধীনে কী কী সুবিধা পাবে দুপক্ষ?
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে প্রথমবারের জন্য যে অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ এবার থেকে জাপানে বিভিন্ন পোশাক অর্থাৎ গার্মেন্টস সহ 7379টি পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবে। তাও আবার কোনও রকম শুল্ক ছাড়াই। এক কথায় জাপানে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। যা পুরোপুরি নিঃশর্ত। ঠিক অপর দিক থেকে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের বিনিময়ে বাংলাদেশ সরকার জাপানকে 1 হাজার 39টি পণ্য বিনা শুল্কে ওপার বাংলায় প্রবেশের অধিকার দেবে।
এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সাথে বিশেষ চুক্তির ফলে দেশটিতে বাংলাদেশি পেশাদারদের জন্য 120টি উপার্জন খাত খুলবে। এদিকে বাংলাদেশ জাপানি সংস্থাগুলির জন্য 97টি উপার্জন খাত উন্মুক্ত করবে বলেই খবর।
অবশ্যই পড়ুন: অষ্টম বেতন পে কমিশন নিয়ে কর্মীদের জন্য সুখবর, লঞ্চ হল ওয়েবসাইট
এ বিষয়ে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “মাত্র চার বছরের মধ্যে উন্নত দেশের সঙ্গে এমন কঠিন চুক্তি থেকে বোঝা যাচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, পরিষ্কার কৌশল এবং আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত একটি উচ্চ প্রভাবিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গঠন করতে পারে।” তাঁর মতে, এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাংলাদেশ এবং জাপানের সম্পর্ককে আরও উন্নত করবে। চাঙ্গা হবে দুই দেশের অর্থনীতিও।