ইন্টারনেট ব্যবহারে কড়াকড়ি, স্ক্রিনটাইম মাত্র ১ ঘণ্টা! শিশুদের জন্য কড়া ডিজিটাল নীতি আনল এই রাজ্য

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন ক্রমাগত নেতিবাচক এবং ইতিবাচক প্রভাব ফেলে চলেছে। যার ফলে এই ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে সকলের। বিশেষ করে বাচ্চাদের মধ্যে এই প্রবণতা প্রবল দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ১০ থেকে ১৫ বছরের প্রায় ৭০ শতাংশ শিশু প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি সময় কাটাচ্ছে Instagram, TikTok এবং YouTube এর মতো প্ল্যাটফর্মে। তাই এবার নতুন ডিজিটাল আচরণ বিধির প্রস্তাব (Digital Detox Policy) নিয়ে আসল সরকার।

অন্ধ্রপ্রদেশের পর নয়া নীতি চালু হল এই রাজ্যে

উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কমবয়স বাচ্চাদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, এক্স, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম-সহ ১০টি সমাজমাধ্যমের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৬ বছরের কমবয়সিদের ১০ লক্ষেরও বেশি অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে সেগুলি সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে ব্লক করা হয়েছে। আর এবার সেই নিয়ম ধীরে ধীরে ভারতেও প্রয়োগ হতে চলেছে। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশেও ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়লো আরও একটি রাজ্য কর্ণাটক।

সন্ধ্যা ৭টার পর ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ!

রিপোর্ট মোতাবেক, শিশুদের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ংকর প্রভাব কমাতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কর্নাটক সরকার। শিশুদের মানসিক এবং শারীরিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে জারি করা হয়েছে কিছু খসড়া তালিকা। যেখানে বলা হয়েছে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সিদের জন্য স্ক্রিনটাইম এক ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করতে হবে, সন্ধ্যা ৭টার পর ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে, শুধুমাত্র অডিও প্ল্যান এবং বয়স-উপযোগী ডিভাইসের মতো কিছু পদক্ষেপের খসড়া-প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও খসড়ায় জানানো হয়েছে, স্কুলে যেন ছাত্র-ছাত্রীদের ডিজিটাল আচরন বিধি সঠিকভাবে শেখানো হয় এবং অনলাইন নিরাপত্তা, গোপনীয়তা সম্পর্কে বোঝানো হয়।

আরও পড়ুন: বইবে ৫০ কিমি বেগে হাওয়া, ৩ জেলায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ধেয়ে আসছে বৃষ্টি!

কর্ণাটক সরকারের প্রকাশিত খসড়া নীতি মালাতে জানানো হয়েছে, স্কুলের শিক্ষকরা যেন অভিভাবক এবং অভিভাবকদের সঙ্গে একটি চাইল্ড প্ল্যান করে, যেখানে মোবাইল শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর চাপ, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এবং পড়াশোনার অবনতির মতো প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। এমনকি সাইবার অপরাধ দমন পুলিশের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সুস্থতা কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার খসড়া নীতি মালাটি কতটা সুপ্রভাব ফেলে বাচ্চাদের জীবনে।

Leave a Comment