প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২০২৫ সালেই শেষবারের মতো হয়েছে বার্ষিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এরপর থেকেই নয়া শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হয়েছে সেমেস্টার পদ্ধতি। চলতি বছর থেকে রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যক্রম সেমেস্টার ভিত্তিক করা হয়েছে। প্রতি সেমেস্টারে বিভিন্ন স্কুল বিভিন্ন রকম ফি নেয়। এমতাবস্থায় কয়েকটি স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে যে সেখানে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। বিতর্ক চরম পর্যায়ে গেলে কিছুদিন আগেই নির্দিষ্ট ফি বেঁধে দিল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এবার ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার নাম নথিভুক্তিকরণের সময় নির্ধারিত ফি জমা নিয়ে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
মাত্রাতিরিক্ত ফি নিয়ে কটাক্ষ শুভেন্দুর
কয়েকটি স্কুলের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ ওঠায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ নির্দেশিকার মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে স্কুলগুলি সেমেস্টার পিছু পরীক্ষার্থীদের থেকে ৭০ টাকা নিতে হবে, এর বেশি নেওয়া যাবে না। আসলে এতদিন উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সেমিস্টার পিছু ফি কত হবে, তার নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। ফলে এক একটি স্কুল এক এক রকম টাকার অঙ্ক ধার্য করত বলে অভিযোগ উঠছিল। কিন্তু সংসদের তরফে নির্দেশিকার মাধ্যমে ফি বেঁধে দিলেও এবার সেন্টার ফি বাবদ নিতে প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ শিক্ষা অবৈতনিক হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোনো না কোনো ভাবে ছাত্র ছাত্রীদের থেকে ঠিক পয়সা উসুল করার ধান্দা করছে।
কী বলছেন শুভেন্দু?
স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সেমিস্টার পদ্ধতি পরীক্ষার ফি নিয়ে মমতা সরকারকে চরম কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংসদের অধীনস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের জানানো হয়েছে যে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার নাম নথিভুক্তিকরণের সময় নির্ধারিত ফি জমা করতে হবে। আর সেখানেই পরীক্ষার্থীদের থেকে সেন্টার ফি বাবদ আলাদাভাবে টাকা জমা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলায় খুবই দুর্বিষহ অবস্থা শিক্ষা ব্যবস্থার। একদিকে যেখানে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি ও সরকারের উদাসীনতার কারণে হাজার হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হওয়া থেকে, প্রচুর স্কুলে শিক্ষকের অভাব সহ অন্যান্য কারণে সরকারি স্কুল শিক্ষার পরিকাঠামো ভেঙে পড়ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে সরকার নিজেই অভিভাবকদের বাধ্য করছে সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে পাঠানোর যাতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ফুলে ফেঁপে ওঠে এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের লাভ হয়।
আরও পড়ুন: মানবিকতার খাতিরেই ৩২০০০ শিক্ষকের চাকরি বহাল? ১৪১ পৃষ্ঠার যা বলল হাইকোর্ট
প্রসঙ্গত শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ‘সর্বশিক্ষা অভিযান’ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন “কেন্দ্রীয় সরকার ছাত্র ছাত্রীদের একীভূত করার জন্য ‘সর্বশিক্ষা অভিযান’ চালু করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সমগ্র শিক্ষা অভিযান হিসেবে পরিচিত। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত স্কুলে শিক্ষা বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রদানের একটি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এই কর্মসূচি সারা দেশে অনুসরণ হওয়ার কথা, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রীতি মানছেন না বরং ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে টাকা নিয়ে চলেছেন।” যদিও এই প্রসঙ্গে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি শাসকদল।