বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রাথমিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ আজ ইরানের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের আকার নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সিংহাসনচ্যুত করতে ইরানের রাজপথে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠনের সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, ইরানে আজ পর্যন্ত বিক্ষোভে 3,000 এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে দেশটির চিকিৎসকরা সেই দাবি উড়িয়ে জানাচ্ছেন ইরানে বর্তমানে মৃতের সংখ্যা 16 হাজার পার। এমতাবস্থায়, ইরানের জনগণকে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাজানিন বারাদারান নামক এক নারীর বিরুদ্ধে (Mastermind Of Iran Protest)। বিক্ষোভের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে আইআরজিসি।
কে এই নাজানিন?
ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, আমজনতার চূড়ান্ত বিক্ষোভে উত্তাল দেশ। আর এই বিক্ষোভকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে নাম রয়েছে নাজানিনের। জানা গিয়েছে, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দীর্ঘ তদন্ত চালিয়ে ওই মহিলার খবর জানতে পারে। তারপরই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ইরানের গণমাধ্যম দাবি করছে, ওই মহিলার সাথে দেশটির নির্বাসিত যুবরাজ রাজা পাহলভির গভীর যোগ রয়েছে। বলাই বাহুল্য, ইরানের বিক্ষোভে যুবরাজ রাজা পাহলভির ভূমিকা রয়েছে। তাঁরই একটি সোশ্যাল পোষ্টের পরই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। এই ঘটনার পর ইরানের একটা বড় অংশ জুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা।
ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, নাজানিন ইরানের নির্বাসিত রাজপুত্র পাহলভির নির্দেশে কাজ করছিলেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে দিতে রাহা ছদ্মনাম নিয়েছিলেন তিনি। কয়েকটি সূত্র দাবি করছে, রাজা পাহলভির মাধ্যমে ওই অভিযুক্ত মহিলা আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ইরানের গণমাধ্যম এও দাবি করেছে, ওই মহিলাই সাধারণ জনগণকে বিক্ষোভের জন্য উসকে ছিলেন। মজার বিষয়, তাঁকে গ্রেফতার করার পরই দেশটিতে বিক্ষোভ অনেকটাই থিতিয়ে পড়ে। যদিও বার্তাসংস্থা রয়টার্স ওই মহিলার পরিচয় কিংবা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করা হয়নি বলেই জানিয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: পাচার হয়ে যাচ্ছিল এমন ১৫০০ জন শিশুকে উদ্ধার, রেলের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন অগ্নিকন্যা চন্দনা
বলে রাখি, ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রধান নেত্রী হিসেবে অভিযুক্ত নাজানিনের জন্ম 1963 সালে। ইরানের সিরাজ শহরের সিরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। নিজের কলেজ জীবন শেষ করে বহুবার দেশে নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কন্ঠ চড়িয়েছিলেন নাজানিন। সাধারণ মানুষকেও বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই মনে করছেন, আমেরিকার সাথে হাত মিলিয়ে রাজা পাহলভি এবং এই অভিযুক্ত বছর 63 র মহিলা ইরানে বড়সড় ঘোটালা পাকানোর চেষ্টা করছিলেন। তাতে অনেকটাই সফল হয়েছেন তারা। সূত্রের খবর, খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এখনও নাকি আমেরিকার একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সাথে কথাবার্তা চলছে পাহলভির।