প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: একবার নয়, বরং চারবার, পদ্মশ্রী বুলা চৌধুরীর হিন্দমোটরের ফাঁকা বাড়িতে ফের চুরি (Theft At Bula Chowdhury’s House)! হ্যাটট্রিক করার পরও কিছুতেই থামছে না চোর। জানা গিয়েছে, হুগলির হিন্দমোটরের দেবাইপুকুরের বাড়িতে জানলার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে সর্বস্ব লুটে নিলো চোরের দল। শনিবার তিনি ভাইয়ের বাড়িতে একটি পুজোয় অংশ নেওয়ার জন্য হুগলিতে গিয়েছিলেন। পাশেই রয়েছে তাঁর বাড়ি। দরজা খুলতেই তিনি দেখেন, তাঁর বাড়ির সামনের ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে পড়ে রয়েছে, গোটা ঘর তছনছ।
চুরির ঘটনার পুনরাবৃত্তি
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট প্রাক্তন সাঁতারু বুলা চৌধুরীর উত্তরপাড়ার দেবাইপুকুর রোডের বাড়িতে চুরি হয়েছিল। বাড়ির দরজা ভেঙে পদ্মশ্রী রেপ্লিকা-সহ একাধিক মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয় চোর! ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তদন্তে নামে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা। এরপর ঘটনার কার্যত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চুরির কিনারা করে ফেলেন তদন্তকারীরা। গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে এবং মেডেল ও চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করে। এবার সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই বাড়িতে হানা দিল চোরের দল। তবে এবার বাড়ির দরজা ভেঙে নয় রীতিমত জানলার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে বহু জিনিস লুট করে নিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা।
আরও পড়ুনঃ হতে পারে সপ্তম বেতন কমিশন ঘোষণা! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের জন্য বড় আপডেট
কী বলছেন বুলা চৌধুরী?
বুলা চৌধুরী বলেন, “ভাইয়ের বাড়িতে পুজো ছিল তাই এখানে এসেছিলাম। ভাবলাম একবার ঘুরে যাই ঘরটা কেমন আছে। এসে দেখি জিনিসপত্র ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শেষপর্য়ন্ত দেখলাম সামনের ঘরের জানালার গ্রিলটা কাটা। সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। কী নিয়েছে এখনই কিছু বলতে পারছি না। জামাকাপড়ে পড়ে রয়েছে, কিছু মেমেন্টো পড়ে রয়েছে। আগেও চুরি হয়েছে। শুনেছি পুলিস রাতে আসে। এনিয়ে চারবার চুরি হল। পুলিসকে জানিয়েছি। থানার আইসি এসেছিলেন।”
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাবে না বাংলাদেশ! পাল্টা জবাব দিল BCCI-ও
বুলা চৌধুরীর বাড়িতে চুরির প্রসঙ্গে চন্দননগর কমিশনারেটের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস বলেন, ‘এই বাড়ি থেকে আগেই তিনি দামি জিনিসপত্র নিয়ে গিয়েছেন। রাতে ওই বাড়িতে পাহারা থাকে। সন্ধ্যায় হয়তো এ ঘটনা ঘটেছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এদিকে বারংবার চুরির পর বাড়ি মেরামত করতে রীতিমতো আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বুলা চৌধুরী।