একটানা ৫০ বছর ধরে না ঘুমিয়েও দিব্য সুস্থ আছেন মোহনলাল

Sleep Science Mystery Mohanlal has not slept for 50 years

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বয়স 75 বছর। যে বয়সে একটু কাজ করেই হাঁপিয়ে যান সকলে, সুযোগ পেলেই ঘুমের জন্য খোঁজেন আরামের বিছানা। সেই পর্বে দাঁড়িয়ে একটানা 50 বছর ধরে না ঘুমিয়েই দিব্য কাটিয়ে দিচ্ছেন মধ্যপ্রদেশের রেওয়ার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম কালেক্টর মোহনলাল দ্বিবেদী (Sleep Science Mystery)। তাঁর এই অস্বাভাবিক জীবনযাপন চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এত বছর না ঘুমিয়ে বেঁচে রয়েছেন মোহনলাল?

না ঘুমিয়েও কোনও সমস্যা হয় না মোহনলালের

Tv 9 এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেওয়া শহরের চাণক্যপুরী কলোনির বাসিন্দা মোহনলাল দ্বিবেদী আজ 50 বছরেরও বেশি সময় নিদ্রাহীন ভাবে রয়েছেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কখনই গুরুতর অসুস্থ হননি তিনি। শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়নি তাঁর। জানা যায়, বছরের পর বছর ঘুম না হওয়ায় জবলপুর থেকে দিল্লি এমনকি মুম্বইয়ের নামি হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও চিকিৎসকেরা রোগ চিহ্নিত করতে পারেননি। ঠিক কী কারণে মোহন বাবুর ঘুম আসেনা তা আজও অজানা।

খোদ মোহনলাল বাবু দাবি করেছেন, তিনি বছরের পর বছর ধরে ঘুম কী জিনিস তা ভুলে গিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি তাঁকে। ঘুম বাদে তাঁর দৈনন্দিন জীবনের রুটিন খুব স্বাভাবিক। এদিকে স্বামীর ঘুম হয় না দেখে স্ত্রীর চোখেও কমেছে ঘুমের মাত্রা। মোহন বাবুর স্ত্রী নর্মদা দেবীও 3 থেকে 4 ঘণ্টার বেশি চোখের পাতা এক করে থাকতে পারেন না। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোহন বাবু জানিয়েছেন, তাঁর যে ঘুমের সমস্যা রয়েছে প্রথম দিকে সেটা কাউকেই বলতেন না তিনি। তবে সময় গড়াতে সমস্যাটা বাড়তে থাকে। তারপরই গোটা বিষয়টি পাঁচ কান করেন। পরিবার সূত্রে খবর, মোহনলাল বাবুর চোখে ঘুম আনতে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি নানান কুসংস্কারমূলক কাজ যেমন ঝাড়ু উড়িয়ে দেওয়ার মতো অনেক কিছুই করেছেন তাঁরা। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি।

কেন ঘুম আসে না মোহনলাল বাবুর?

জানা গিয়েছে, শেষবারের মতো 1973 সালে ঘুমিয়ে ছিলেন মধ্যপ্রদেশের মোহনলাল। এরপর থেকে একটানা 50 বছরেরও বেশি সময় ধরে দু চোখের পাতা এক করে ঘুমোতে পারেননি তিনি। কিন্তু কেন হচ্ছে এমন? নিদ্রাহীনতার সমস্যা নিয়ে রেওয়ার সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট রাহুল মিশ্রর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ঘুম না হওয়ার কারণ মানসিক অসুস্থতাও হতে পারে। যদি কেউ দীর্ঘদিন ঘুম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন তবে তার যত দ্রুত সম্ভব মানসিক চিকিৎসা দরকার। এছাড়াও ঘুম না আসার হাজারো কারণ রয়েছে।” কয়েকজন চিকিৎসক এও বলছেন, সারাদিন পরিশ্রম না করলে ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে।

অবশ্যই পড়ুন: দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি! Amazon, Flipkart-র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ সরকারের

কী বলছে চিকিৎসা বিজ্ঞান?

চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জন্য 24 ঘণ্টার মধ্যে 6 থেকে 8 ঘন্টা ঘুম জরুরী। কোনও ব্যক্তির যদি মানসিক সমস্যা না থাকে তবে তিনি একদিনের মধ্যে কয়েক ঘন্টার জন্য হলেও নিদ্রায় যাবেন। তবে প্রাক্তন যুগ্ম কালেক্টর মোহনলাল বাবুর ক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় একেবারে অবাক হয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে যুক্ত সকলেই।

Leave a Comment