প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রায় সময়েই বিতর্কের মুখে পড়তে হয় প্রশাসনকে। শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগ, ভর্তি প্রক্রিয়া, পঠনপাঠন ব্যবস্থা সব নিয়েই প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। কিন্তু তবুও কোনো সমস্যাই নির্মূল হয় না। এমতাবস্থায় শিক্ষক না থাকায় ফের বন্ধ হয়ে গেল আরও একটি জুনিয়র স্কুল। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় (Chopra)। চলতি শিক্ষাবর্ষে মাঝপথে আচমকা বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা নেমে এল অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষামহলে।
অন্যত্র চলে যায় একের পর এক শিক্ষক
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিগছ আদিবাসী জুনিয়র হাইস্কুলে বিগত কয়েক মাস ধরে শিক্ষক সংকট দেখা যাচ্ছিল। বামফ্রন্ট সরকারকে হারিয়ে যখন তৃণমূল সরকার রাজ করেছিল সেই সময় অর্থাৎ ২০১১ সালে চোপড়ার প্রান্তিক এলাকায় এই স্কুলটিতে পঠনপাঠন শুরু হয়েছিল। ঐসময় এই স্কুলে শতাধিক পড়ুয়া ছিল। ভালই চলছিল পঠনপাঠন। এরপর ২০১৪ সালে দুজন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তার মধ্যে একজন স্থায়ী শিক্ষক বদলি হয়ে চলে যান ২০২২ সালে। তখনই অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন প্রদীপকুমার ঘোষ। এরপর গত বছর মার্চ মাসে একমাত্র স্থায়ী শিক্ষক রমিতকুমার দাসও বদলি হওয়ায় পড়ুয়ারা শিক্ষক সংকটে ভোগেন।
তালা বন্ধ উত্তর দিনাজপুর জেলার এই স্কুলটির
নতুন বছর পড়তেই প্রতিটি স্কুলে নয়া শিক্ষাবর্ষের পঠনপাঠন নিয়ে যখন ব্যস্ততা তুঙ্গে সেই সময় অতিথি শিক্ষক প্রদীপকুমার ঘোয়ের অবসর নেওয়ার সময় হয়ে যায়। গত শনিবার চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিগছ আদিবাসী জুনিয়ার হাইস্কুলের প্রদীপবাবু অবসর নেন, কার্যত তালা বন্ধ হয়ে গেল উত্তর দিনাজপুর জেলার এই স্কুলটি। যদিও স্কুলের যে এই অবস্থা হবে তা আগেই বোঝা গিয়েছিল, তাইতো এইবছর নতুন পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া হয়নি, শুধু তাই নয় আগের পড়ুয়াদেরও টিসি দেওয়া হয় গিয়েছে।
আরও পড়ুন: বালুরঘাট পুরসভায় কোষাগারে টানাটানি! বেতন, পেনশন পাবেনা ১৩০০ কর্মী?
ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষামহল
বিশাল ভবন ও পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষামহল। অভিভাবক প্রেমলাল সিংহ জানিয়েছেন, “মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আগেই একটি জুনিয়ার গার্লস স্কুল বন্ধ হয়েছে। এবার এই স্কুলটিও বন্ধ হল। অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ করে স্কুলগুলি চালু করা হোক।” অন্যদিকে চোপড়া নর্থ সার্কেলের স্কুল পরিদর্শক ফারুক মণ্ডল বলেছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষক সংকটে স্কুলটি বন্ধ রাখা হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ হলে ফের স্কুলটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”