এক ডলার ৯২ টাকারও বেশি! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে রেকর্ড পতন ভারতীয় মুদ্রায়

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে বাজছে যুদ্ধের দামামা। ইরানের একের পর এক হামলায় দিশেহারা ইজরায়েল ও আমেরিকা। আর সেই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই প্রভাব পড়ল ভারতের মুদ্রা বাজারে। হ্যাঁ, বুধবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৭০ পয়সা বেড়ে ৯২.১৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে ভারতীয় মুদ্রা (Indian Rupee)। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এতটা দুর্বল অবস্থা ভারতীয় মুদ্রাকে কখনো দেখা যায়নি। প্রসঙ্গত, সোমবার এক ডলারের দাম ছিল  ৯১.৪৯ টাকা। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানেই এতটা উত্থান পতন।

বাড়ছে ডলারের চাহিদা

ইরানকে ঘিরে ইজরাইল এবং আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত এখন চরম উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি জেরে আপাতত সেরকম কোনও তৈলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারাপার করতে পারছে না। যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং দামও অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী। আর ভারত তার মোট আমদানিকৃত তেলের সবথেকে বড় অংশই ইরান, সৌদি আরব এবং কুয়েতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আনে। যার ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যায়। আর তেলের দাম বাড়লে বেশি পরিমাণে ডলার খরচ করতে হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই ডলারের চাহিদা বাড়ছে আর টাকার উপর চাপ পড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই কারণে টাকার মূল্য দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকছে।

অন্যদিকে বাণিজ্যিক সমঝোতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে ভারতের। সেই কারণে রাশিয়া থেকে তুলনামূলকভাবে তেল কেনা কমিয়েছে ভারত। এমনটাই বাজার মহল ধারণা করছে। আর এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা অনেকটা বেড়েছে। এমনকি বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে আরও চাপে ফেলতে পারে ভারতের অর্থনীতিকে, এমনটাই মত প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন: হোলির দিন মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, সিলিন্ডার ফেটে ভস্মীভূত একাধিক দোকান

তবে শুধু তেলের দাম নয়, বরং মুদ্রা বাজারের অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে ভারতের শেয়ার বাজারেও। মুম্বাইয়ের দালাল স্টিকে দেখা গিয়েছিল বড়সড় পতন। BSE Sensex এক ধাক্কায় প্রায় ১৫০০ পয়েন্ট হারিয়ে ৮০ হাজারের নিচে নেমে আসে। এমনকি NIFTY 50 ৪০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের মতে, শেয়ারবাজারেও দিনের পর দিন তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্ক। আর বিশেষজ্ঞরা দাবি করছে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সমাধান না হয়, তাহলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

Leave a Comment