এদের ১০ লক্ষ টাকা, দুটি করে ঘর দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার! হল বড় ঘোষণা

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) সামনে রেখে জেলায় জেলায় চলছে ভোট প্রচার। জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে এবং উন্নয়নের পাঁচালি সকলের সামনে তুলে ধরতে রীতিমত দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে শাসকদলের ভোট প্রচার। আজও পরিকল্পনা অনুযায়ী রানিগঞ্জে ভোটপ্রচার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য তুলে ধরলেন বড় প্রতিশ্রুতি।

পুনর্বাসন নিয়ে বড় ঘোষণা মমতার

জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ ইতিমধ্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে ৬ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি করেছি। আরও ৪ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। আমি মা, ভাই, বোনেদের কাছে অনুরোধ করব, মনে রাখবেন মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি দামি। একটা নয়, দু’টো করে ফ্ল্যাট সরকার আপনাদের দেবে। যদি আপনার শিফট করেন। শিফটিংয়ের খরচাও দেবে। ইতিমধ্যেই মোট ১০ লক্ষ টাকা করে খরচ ধরা হয়েছে। তাতে যদি কিছু বাড়ে তো বাড়বে। মনে রাখবেন, জীবনের সঙ্গে টাকার কোনও তুলনা হয় না। কারণ, যদি কোনওদিন ধস নামে, হাজার হাজার মানুষ ধসের তলায় চলে যাবে। আমরা এটা চাই না। আমি আপনাদের জোর করছি না, আবেদন করছি।”

ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মমতার

আসলে রানীগঞ্জ হল ধসপ্রবণ এলাকা। মাঝেমধ্যেই তাই রানিগঞ্জ-আসানসোলের রাস্তায় বিরাট ধস নামতে দেখা যায়। শুধু রাস্তা নয়, কয়লা খনিতেও ধস নামে। সেই কারণে মাঝে মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে ধসের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাই তাই পুনর্বাসনের জন্য এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খনি অঞ্চল রানিগঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাই এদিন ফের জনসভা থেকে ভোটের প্রচারের মাঝে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। এদিকে এই সভা থেকেই কেন্দ্র যে এই প্রকল্পের জন্য টাকা দেয়নি সেই অভিযোগও তুলে ধরলেন। এছাড়াও ইলেকশন কমিশনকে ‘বিজেপি পরিচালিত ভ্যানিশ কমিশন’ বলেও বিঁধলেন তৃণমূলনেত্রী।

নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ মমতার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সভা থেকে ফের একবার নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করলেন। তিনি বলেন, ১০০ জন অফিসারকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে তামিলনাড়ু পাঠিয়েছে কমিশন, যাতে এখানে বেনামি টাকা, গুন্ডা ঢুকতে পারে। আসলে দাঙ্গা বাঁধানোর লক্ষ্যেই রাজ্য থেকে অফিসারদের সরানো হয়েছে। এক একটা বুথে ৫০০ ভোটার থাকলে, ৪০০ ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি এদিন বিজেপিকেও আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সব সীমা অতিক্রম করছে’।

আরও পড়ুন: কেতুগ্রামে স্বাস্থ্যকর্মীর কোয়ার্টারের ছাদ ভেঙে প্রাণ গেল ৪ মাসের শিশুর

ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গেও রানীগঞ্জের সভা থেকে বিশেষ বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “রামনবমী হোক বা দুর্গাপুজো, ইদ কিংবা বড়দিন, সব উৎসবই আমরা একসঙ্গে পালন করি। সব ধর্ম, সব সম্প্রদায়কে নিয়েই আমাদের সমাজ।” তিনি আরও বলেন, “ সমাজ গঠনে সকলের অংশগ্রহণ জরুরি। একটা আঙুল দিয়ে মুঠো হয় না। সবাইকে নিয়ে চললেই সমাজ এগোয়।”

Leave a Comment