সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে আসা এপস্টিন ফাইলস ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আর সেই বিতর্কের মাঝে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ২০১৭ সালের ইজরায়েল সফর নিয়ে একটি ইমেইল ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে এই প্রসঙ্গে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। শনিবার বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওই ইমেইলে প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এবং তা গুরুত্ব দেওয়ার মতোই নয়।
বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা
অফিসিয়াল বার্তায় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এপস্টিন ফাইলস বলে পরিচিত কিছু নথিতে একটি ইমেইলের উল্লেখ আমরা দেখেছি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৭ সালের ইজরায়েল সফরের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ওই সময়ে সরকারি সফরেই ইজরায়েলে গিয়েছিলেন। এই তথ্য ছাড়া বাকি সব ইঙ্গিত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং সবকিছুই আজগুবি। এগুলিকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞার সঙ্গে খারিজ করে দেওয়া উচিত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্যের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই এবং সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে এই বিতর্কে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ছড়াচ্ছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা দাবি করেন, এপস্টিন ফাইলসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম জড়ানো কুরুচিকর বিষয়। তাঁর অভিযোগ, এতটা বিতর্কিত একজন ব্যক্তির সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম জড়ানো সম্পূর্ণ কূটনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যের পর সেই অভিযোগ কেন্দ্র সরকার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দিয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
আসলে দেশের বিরোধী দল কংগ্রেস এপস্টিন ফাইলসের এই তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে এক কথায় চুনকালি মাখাতে চাইছে। তাঁরা দাবি করছে যে, সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মোদীর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মেলবন্ধন ঘটেছিল। এমনকি কংগ্রেস কূটনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। তাদের তরফ থেকে দাবি করা হয় যে, এপস্টিন ফাইলস অনুযায়ী নাকি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ইজরায়েলে গিয়ে নাচ-গান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল আর সেই পরামর্শ মতো কাজ করেন মোদী।
তবে বাস্তব ঘেঁটে জানা যাচ্ছে, মার্কিন কংগ্রেসের হোয়াইট হাউস কমিটির প্রকাশিত কোনও নথিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এপস্টিনের সরাসরি বা পরোক্ষ কোনও যোগাযোগ নেই। এমনকি কোনও পরামর্শ গ্রহণের প্রমাণও নেই। আর ফ্যাক্ট চেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই দাবি সম্পূর্ণ বানানো এবং বিভ্রান্তিকর। সেখানে শুধুমাত্র জাতীয় মর্যাদা বজায় রাখার জন্য জাতীয় সংগীত সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আর মোদীর ২০১৭ সালের ইজরায়েল সফর ছিল শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আর প্রযুক্তি বিনিময়ের জন্যই। অন্য আর কিছুই নয়।
Fake News Alert:
Congress’s sensational claim that Jeffrey Epstein wrote about Prime Minister Narendra Modi allegedly taking his “advice” to “dance and sing” in Israel for the benefit of a U.S. President is a gross distortion of the facts.
None of the Epstein documents… https://t.co/VYVZUKOBdy
— Amit Malviya (@amitmalviya) January 31, 2026
আরও পড়ুন: আকাশছোঁয়া থেকে মাটিতে নামল সোনা-রুপোর দাম, মুখে হাসি মধ্যবিত্তের
কী এই এপস্টিন ফাইলস?
বলে রাখি, শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছিল। আর সেই নথির মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষের বেশি পৃষ্ঠা নথি, ২০০০ এর বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে। মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নির্দেশ অনুযায়ী স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্যই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেখানে নাম থাকা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই কার্যত উড়ানো হল।
Fake News Alert: