প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আর কয়েক মাস পরেই রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন। তাই এইমুহুর্তে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে এসআইআরের কাজ চলছে। আর এই আবহে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিল চলতি বছর এপ্রিল মাস থেকে জনগণনা (Census 2027) শুরু হবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় দফার জনগণনা শুরু হতে পারে ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে নাগরিকদের গণনা। আসলে ভারতে প্রতি দশ বছর অন্তর জনগণনা হয়। এর আগে শেষ বার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। কোভিডের কারণে ২০২১ সালের জনগণনা স্থগিত রাখা হয়েছিল। এবার সেই জনগণনা হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, ২০২৭ সালের এই জনগণনা হবে দেশের ১৬তম এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম।
জনগণনা নিয়ে কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি
কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে প্রথম ধাপের জনগণনা শুরু হবে চলতি বছরের ১ এপ্রিল। চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এক্ষেত্রে জনগণনা হবে দুটি ভাগে। প্রথমে হাউসলিস্টিং অ্যান্ড হাউসিং সেন্সাস হবে। অর্থাৎ বাড়ি আবাসিক না বাণিজ্যিক, ক’টি পরিবার থাকে, জল-শৌচালয়-বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধা আছে কি না, ইত্যাদি নথিভুক্ত করবেন জনগণনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। এবং দ্বিতীয় ধাপে হবে পপুলেশন এনুমারেশন অর্থাৎ নাগরিকদের সংখ্যার গণনা। তবে সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাই তথ্য আপলোড করতে পারবেন। এর জন্য ১৫ দিন আগে থেকে সেলফ এনিউমারেশন পর্ব চালু হয়ে যাবে। এই প্রথম গোটা দেশে ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে।
দ্বিতীয় ধাপে নাগরিকদের সংখ্যার গণনা
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি যাবেন কর্মীরা। প্রতিটি বাড়িতে কত জন থাকেন, তাঁদের বয়স-জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, ভাষা ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করবেন তাঁরা। তবে এই গণনায় আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। জানা গিয়েছে, ১৯৪৮ সালের আদমশুমার আইন এবং ১৯৯০ সালের আদমশুমার বিধি অনুযায়ী চলবে গোটা কর্মকাণ্ড।
জনগণনায় কত টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র?
জনগণনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড ও iOS চালিত মোবাইল ফোনে বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি গ্রাম, শহর এবং ওয়ার্ড স্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। এর জন্য ইতিমধ্যেই ১১,৭১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এছাড়াও পুরো প্রক্রিয়ার নজরদারি চলবে Census Management & Monitoring System পোর্টালে। হাউসলিস্টিংয়ের জন্য ব্লক ক্রিয়েটর নামে নতুন ওয়েব ম্যাপ টুলও নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: শতাব্দী এক্সপ্রেস তুলে দিতে তৈরি হবে ১৫০০ বন্দে ভারত কোচ! বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে রেল
কেন্দ্রের এই জনগণনার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠে এসেছে। চলতি বছর এপ্রিল মাসে বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। আর এই ভোটের মরশুমে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন কী? এমনিতেই ভোট প্রক্রিয়া প্রশাসনের একটা বড় কাজ। তার উপর জনগণনার চাপ থাকায় কাজে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হবে না তো? যদিও এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোন রাজ্যে কখন এই তথ্য সংগ্রহ হবে সেটা স্থানীয় প্রশাসন ঠিক করবে। সেক্ষেত্রে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে জনগণনার কাজটা ভোটের পরও করা যেতে পারে।
Heard about ‘code bắn cá zagoo’ and had to investigate. The Zcazagoo platform has something really interesting. If you are looking for some fishing fun check it out here: code bắn cá zagoo.