প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ পদ নিয়ে এক জরুরি আলোচনা চলছিল। অবশেষে সেই পদের দায়িত্বভার পেলেন কুণাল মিমানি (Kunal Mimani)। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের হয়ে আর সওয়াল করতে দেখা যাবে না আইনজীবী আস্থা শর্মাকে। রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে আইনজীবী বদলের কথা জানিয়েছে। যদিও আস্থা শর্মাকে কেন সরানো হল, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হলেন কুণাল!
সম্প্রতি রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের অনুমতিক্রমেই শীর্ষ আদালতে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড পরিবর্তন করা হল। এত দিন আস্থা শর্মাকেই রাজ্যের হয়ে বিভিন্ন মামলায় সওয়াল করতে দেখা গিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। এমনকি আরজি কর মামলাতেও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেছেন আইনজীবি আস্থা। তবে এবার আস্থাকে সরানো হল, এবং তাঁর জায়গায় আনা হল আইনজীবী কুণাল মিমানিকে। নায়ক সুলভ লুক এই ব্যক্তি ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনি পেশায় রয়েছেন। জানা গিয়েছে কুণাল নাকি গুজরাত ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন।
কে এই কুণাল মিমানি?
সূত্রের খবর, কুণাল মিমানি আইনি পেশায় অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হয়ে সওয়াল করেছেন দেশের নানান আদালতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাবলিক সার্ভিস ইউনিটের হয়ে আদালতে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে কুণালকে। এ ছাড়াও দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের হয়ে লড়ারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এমনকি দেশের বিভিন্ন উচ্চ আদালতে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার হয়ে আইনি লড়াইয়ে তিনি সফল হয়েছেন। তাই সেক্ষেত্রে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের যৌথ সম্মতিতে হওয়া এই রদবদল সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ মামলাগুলোর মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: DA নিয়ে চিন্তার দিন শেষ! সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের মামলার মুখে পড়েছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, দোলা সেনসহ ১০ জন তৃণমূল নেতা। সেই রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়েও কুণাল মিমানির মতো দক্ষ আইনজীবীরাই তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং প্রমাণ করেছিলেন যে সেই প্রতিবাদ কোনো আইন ভঙ্গ করেনি। তাই সেক্ষেত্রে এই রদবদল বর্তমান সময়ে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।