সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দ্বাদশ শ্রেণীর সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে এবার বিরাট পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED on SSC Scam)। কলকাতা জোনাল অফিসের তরফ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং মিডিলম্যান প্রসন্ন কুমার রায় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা প্রায় ৫৭.৭৮ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে এই নতুন সংযুক্তিকরণের ফলে এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে ইডির জব্দ করা মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯৮ কোটি টাকা। হ্যাঁ, সম্প্রতি এমনটাই জানানো হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তরফ থেকে। আর এ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে লেগেছে কোন্দল।
কোন কোন সম্পত্তি জব্দ করা হল?
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, জব্দ করা সম্পত্তিগুলির মধ্যে রয়েছে রাজারহাট এবং নিউটাউনের একাধিক আবাসিক কপার্টমেন্ট ও ভিলা, পাথরঘাটা থেকে শুরু করে গড়গড়ি এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় থাকা মূল্যবান কিছু জমির পার্সেল, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি। পাশাপাশি HIDCO দ্বারা উন্নত এলাকায় অবস্থিত একাধিক জমি এবং নির্মাণ সামগ্রীগুলিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আর এই সমস্ত সম্পত্তি ২০০২ সালের প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট আইনের আওতায় সংযুক্ত করা হয়েছিল।
ED, Kolkata Zonal Office has provisionally attached immovable properties belongs to Jiban Krishna Saha, MLA; Prasanna Kumar Roy and others, having a total value of approximately Rs. 57.78 Crore in the form of residential apartments, villas and land parcels located at Rajarhat,… pic.twitter.com/HlmhBC38SS
— ED (@dir_ed) January 21, 2026
আরও পড়ুন: বিয়ের মরসুমে হাহাকার, ইতিহাসের সব রেকর্ড ভাঙল সোনার দাম, রুপো কত? আজকের রেট
এদিকে ইডির এই অভিযানের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি লিখেছেন, এখনও পর্যন্ত ৬৯৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই অংক আরও বাড়বে। এটা কোনও প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ফল। শিক্ষকদের লুট করা হয়েছে, এমনকি মেধাকে খুন করা হয়েছে আর চাকরি বিক্রি করা হয়েছে। তৃণমূল নেতারা যখন বেআইনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে, তখন হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীকে হতাশ আর অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এখনও সবটা সামনে আসেনি। শুধু অপেক্ষার পালা।