বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সরকারি কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নিয়ম বেঁধে দিল বিহার সরকার (Social Media Usage Rules)। জানা যাচ্ছে, সরকারের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী এবার থেকে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল কিংবা প্রোফাইল খোলার আগে বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। শুধু তাই নয়, কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স এমনকি ইউটিউবে কী ধরনের পোস্ট করতে পারবেন সেটাও ঠিক করে দিয়েছে বিহার সরকার। সে রাজ্যের মন্ত্রিসভার তরফে অনুমোদন দেওয়া নতুন নিয়মগুলির অধীনে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে জারি করা হয়েছে একাধিক বাধ্যবাধকতা।
সরকারের নির্দেশে এই কাজ আর করা যাবে না
বিহারের স্থানীয় কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, সে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নতুন নিয়ম চালু করেছে বিহারের মন্ত্রিসভা। সরকারের তরফে খুব পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মী এবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইল খোলার আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেবেন। একই সাথে, অনলাইনে ব্যক্তিগত বিষয়ে পোস্ট করার সময় কেউ নিজেদের সরকারি পদ, সরকারি লোগো এমনকি সরকারি কাজের সাথে সম্পর্কিত কোনও তথ্য উল্লেখ করতে পারবেন না।
বিহার সরকারের নতুন নির্দেশিকায় এও বলা আছে, এবার থেকে বিহারের সরকারি কর্মীরা কোনও রকম অশ্লীল, উস্কানিমূলক, আপত্তিকর বা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে দিতে পারে এমন কোনও বিষয় পোস্ট করতে পারবেন না। কোনও জাত, সম্প্রদায়, ধর্ম এমনকি ব্যক্তিকে ছোট করা হয় বা তার মানহানি হয় এমন সব ভিডিও বা ছবি কিংবা মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় রাখতে পারবেন না একজন সরকারি ব্যক্তি। শুধু তাই নয়, একজন কর্মচারী চাইলেই সরকারি সভা, কোনও সরকারি অফিসের ছবি কিংবা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারবেন না।
একই সাথে, সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কোনও তথ্য পোস্ট করতে পারবেন না একজন সরকারি কর্মচারী। এখানেই শেষ হচ্ছে না নিয়ম। সরকারের তরফে খুব পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে, একজন সরকারি কর্মীকে অবশ্যই রাজনৈতিক দিক থেকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। একই সাথে তাঁদের প্রোফাইলে সরকারি নীতি, সিদ্ধান্ত, এমনকি তাদের সাথে আলোচনা প্রকাশ করা যাবে না। বিহার সরকার জানিয়েছে, একজন সরকারি কর্মী কোনও ব্যক্তির সংবেদনশীল তথ্য বা যৌন নিপীড়নের শিকার এমন ব্যক্তির পরিচয় বা তথ্য প্রকাশ করলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবশ্যই পড়ুন: পাকিস্তানকে দেদার ট্রোল খুদে আইসল্যান্ড ও উগান্ডার!
উল্লেখ্য, এর আগে বেশ কয়েকবার বিহারে সরকারি কর্মীদের নানান পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। অনেকেরই দাবি, বিহারের বহু সরকারি কর্মী বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে নানান পোস্ট করতেন। যার কারণে নানা দিক থেকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল নিতিশ কুমারের সরকারকে। এছাড়াও সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন পোষ্টের কারণে প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যটির আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও। মূলত সে কারণেই সরকারি কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি না করে তাঁরা সমাজ মাধ্যমে ঠিক কতদূর পর্যন্ত নিজেদের মতামত বা অন্যান্য তথ্য রাখতে পারেন সেই সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়েছে, বলেই জানালো বিহার সরকার।