প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিগত একবছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়েছেন ভারতে। গণবিক্ষভের জেরে বাধ্য হয়েছিলেন ওপার বাংলা ছাড়তে। এদিকে কোটা নিয়ে ছাত্রজনতার আন্দোলনের সময়ে সে দেশে গণহত্যার মামলা ওঠে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। আর সেই মামলায় সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা কিছুদিন আগে হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল দিল্লিকে। কিন্তু এই প্রসঙ্গে কোনও মতিগতি দেখা যাচ্ছে না মোদী সরকারের। স্বাভাবিকভাবে তাই প্রশ্ন উঠছে কবে হাসিনা ভারত ছাড়বেন? আর এবার সেই নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)।
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রী
স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাক্ষাৎকার পর্বের আয়োজন করেছিল। সেখানেই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল জয়শঙ্করের কাছে যে, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশে, এদিকে এখনও ভারতে রয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে কি তিনি যতদিন চান ততদিন কি ভারতে থাকতে পারবেন? জবাবে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ”শেখ হাসিনা এখানে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসেছিলেন। ছাত্রজনতা বিক্ষোভের পর ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা বিবেচনা করেই তাঁর ওই পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু আবারও বলছি, এটা এমন একটি বিষয় যে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, মন তৈরি করতে হবে। আমরা অবশ্যই চাই, যেহেতু তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাই তাঁকে ফেরৎ দেওয়া হোক। যাতে বিচার এবং শাস্তি কার্যকর করা যায়।”
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জবাব জয়শঙ্করের
গত বছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্রজনতার বিক্ষোভের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। আশ্রয় নিয়েছিল ভারতে, তারপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে থাকে। এদিন সেই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয় জয়শংকরকে। জবাবে বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক বিষয়গুলির কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা যা শুনেছি তা হল বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তাদের আগে নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল তা নিয়ে সমস্যা ছিল। এখন, যদি সমস্যাটি নির্বাচন হয়, তাহলে প্রথম কাজ হবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা।”
আরও পড়ুন: নিরামিষ ভূরিভোজে পুতিনের পাতে এলাহি আয়োজন রাষ্ট্রপতি ভবনে! দেখে নিন তালিকা
প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রতি গণতান্ত্রিক অগ্রাধিকারের উপর জোর দিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করি। আমরা মনে করি একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে, যেকোনও গণতান্ত্রিক দেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা নিশ্চিত হতে চায়। আর আমি নিশ্চিত যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যা কিছু বেরিয়ে আসবে তার সম্পর্ক নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং পোক্ত দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে এবং আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এবং জনগণের ইচ্ছা পূরণ হবে।”