কনস্টেবল নিয়োগে কমানো হয়েছে উচ্চতা! প্রার্থীদের ফের আবেদনের সুযোগ দিল হাইকোর্ট

Calcutta High Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের জটিলতা। উচ্চতার পরিমাপ নিয়ে গন্ডগোলের অভিযোগ সামনে আসতেই বড়সড় নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। অভিযোগকারী প্রার্থীদের পুনরায় আবেদন জানানোর অনুমতি দিয়েছে আদালত, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আবার প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

কী নির্দেশ দিল হাইকোর্ট?

আসলে মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, অভিযোগকারী প্রার্থীরা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের কাছে আবেদন জানাতে পারবে। আর বোর্ডকে সেই আবেদন বিবেচনা করতে হবে। এমনকি আবেদন পাওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালতে জানানো হয়েছে, প্রার্থীরা আগে আবেদন করতে চাইলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

বলে দিই, এই ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের কনস্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে। সেই অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল এবং গত বছরের ডিসেম্বর মাসে উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশিত হয়, আর ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াও শুরু হয়। তবে অভিযোগকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় উচ্চতা মাপার ক্ষেত্রে গন্ডগোল সামনে আসে। আর প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৫ জন পরীক্ষার্থী তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই দাবি করা হয়। সেই তালিকায় আমানা খাতুন থেকে শুরু করে তসলিমা নাসরিন সহ একাধিক প্রার্থীদের নাম রয়েছে, যাদের ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়ার কথা ছিল।

তবে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিশ্বব্রত বসু মল্লিক এবং অস্মিতা মিত্র আদালতে দাবি করেন যে, তাঁদের মক্কেলরা নির্ধারিত উচ্চতার থেকেও লম্বা। এমনকি পূর্ববর্তী নিয়োগ পরীক্ষর মেডিকেল রিপোর্টে তা প্রমাণিত। আর বর্তমান স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উচ্চতা কম দেখানো হয়েছে। আইনজীবীদের যুক্তি, উচ্চতা বাড়তে পারে, কিন্তু কমতে পারে না। তাই পরিমাপের গন্ডগোলের আশঙ্কা কোনওভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আরও পড়ুন: অপারেশন ২.০ এর সংকেত? ভারত সীমান্তে ‘গোল্ডেন ঈগল এক্সারসাইজ’ মহড়া পাকিস্তানের

পাশাপাশি উল্লেখ করার বিষয়, কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে এটি প্রথম মামলা নয়, বরং ইতিমধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হস্তক্ষেপ করছে হাইকোর্ট। আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সমস্ত প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ করতে হবে। যার জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, পুনর্মাপ বা রিভিউ মেডিকেল টেস্টের সম্ভাবনা রয়েছে। আর বোর্ডকে লিখিতভাবে সেই সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। এখন দেখার, আদালত কী পর্যবেক্ষণ করে।

Leave a Comment