প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে SIR নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। শুধু তাই নিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবার প্রয়োজনে আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করবেন বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই মতো আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর শুনানিতে উপস্থিত হলেন তিনি। এদিন কালো গাউন পরে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে।
সাধারণের হয়রানি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে বেলা ১টার কিছু পর শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর মামলার শুনানি। প্রথমে মমতার মামলার সওয়াল করছেন আইনজীবীরাই। যদিও তখন সামনের সারিতে আসেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু শুনানি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসন পরিবর্তন করে সামনের সারিতে চলে আসেন মমতা। সেই বৈঠকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে উপস্থিত হন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। সওয়াল করেন মামলাকারী জয় গোস্বামীর আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান। প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং সাধারণের হয়রানির কথা শীর্ষ আদালতে তুলে ধরেন। শুরুতেই নথি জমা দেওয়া হয়েছে মমতার তরফে। তাঁদের আবেদন, অনলাইনে প্রকাশ করা হোক। কেন, কোন কারণে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য ডাকা হচ্ছে, সেটা সামনে আনার আবেদন করা হয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ডেডলাইন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
SIR মামলা প্রসঙ্গে রাজ্যের তরফে বলা হয়, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা, হাতে বাকি আর ১১ দিন। এদিকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি হবে। এখনও ৩২ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি আছে। চার দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করতে প্রতিদিন ১৫ লক্ষ মানুষের শুনানি করতে হবে। মানুষ চার পাঁচ ঘণ্টা ধরে লাইনে অপেক্ষা করছে। এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি, অবিলম্বে ভোটারদের নাম বাতিলের প্রক্রিয়াটি বন্ধ করা হোক। লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি অর্থাৎ স্রেফ নামের বানানের জন্য যাঁদের শুনানিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, সেসব নোটিস তুলে নেওয়া হোক। এছাড়া তৃণমূল সুপ্রিমোর আরও আবেদন পশ্চিমবঙ্গ থেকে সব মাইক্রো অবজারভারকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হোক।
শুনানি বিভ্রাট নিয়েও উঠছে প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী কপিল সিব্বলের সওয়ালের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সওয়াল করতে চান। তখন তাঁকে সওয়াল করার সুযোগ করে দেন বিচারপতিরা। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা বিচার পাচ্ছি না। আমি ৬ বার চিঠি লিখেছি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। একবারও চিঠির উত্তর পাইনি। সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি, গোটা পরিস্থিতি বলতে পারি।” এরপরই নাম বিভ্রাটে কীভাবে ভোটার হেনস্তা, জানতে চাইলেন প্রধান বিচারপতি। সেই সময় মমতার আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান বলেন, কারও পদবি গাঙ্গুলী, রে বা চ্যাটার্জি। ২০০২ ভোটার তালিকা বাংলায় রয়েছে। ইংরাজি তর্জমায় বানান বদলে গিয়েছে। তাই এই বিভ্রাটকে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির তালিকায় রাখা যায় না।
Addressing the Hon’ble Court, Smt. @mamataofficial placed real-life cases on record, backed by reports from leading newspapers. Clarifying, she stated: “These are not my photographs. These are from reputed newspapers.”
She explained that the SIR is being used almost entirely as… pic.twitter.com/2gaO51NyHT
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) February 4, 2026
আরও পড়ুন: মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে ফোন ব্যবহার শিক্ষাকর্মীর, প্রতিবাদ করতেই মারধর SI-কে
পরবর্তী শুনানি কবে?
SIR প্রসঙ্গে রোল পর্যবেক্ষক বিজেপিশাসিত রাজ্য থেকে নিয়ে আসা হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ইআরও-র কোনও ক্ষমতা নেই। রোল পর্যবেক্ষক বিজেপিশাসিত রাজ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। অনেকে জীবিত রয়েছেন। মাইক্রো অবজার্ভার নাম মুছে দিচ্ছেন।” এবিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন “আমরা এই বিষয়ে নির্দেশ দেব।” জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি হবে। রাজ্য এবং কমিশন দুই পক্ষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। কী কী পদক্ষেপ করছে কমিশন, জানাতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সহানুভূতিশীল হতেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কত অফিসার দিতে পারবে রাজ্য, তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে নবান্নকে।