কয়লা কাণ্ডে নগদ ৪ কোটি সহ সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত ED-র

Coal Scam Case

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্য জুড়ে যখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি সেই সময় কয়লা পাচার মামলায় (Coal Scam Case) প্রকাশ্যে উঠে এল এক বিস্ফোরক আপডেট। গত মঙ্গলবার দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কয়লা পাচার মামলায় চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। জানানো হয়েছে তদন্তে অসহযোগিতা এবং বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি থাকায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর এবার ধৃতদের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া আধিকারিকদের।

উদ্ধার লাখ লাখ টাকা এবং সোনা

রিপোর্ট মোতাবেক, গত সপ্তাহে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খাঁ-র বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডির বিশেষ দল। ওই অভিযানে ২০২১ সালের পর থেকে বেআইনি কয়লা পাচারের বহু নথি উদ্ধার করা হয়। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হয় টাকার পাহাড় এবং বিপুল হয়না। ED-র তরফে জানানো হয়েছে ধৃত চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ-র বাড়িতে লুকিয়ে রাখা ছিল ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গহনা। মিলেছে লুকিয়ে রাখা নগদ ২৮ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি তল্লাশিতে অপর এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা নগদ মিলেছে। অর্থাৎ এই দুর্নীতি মামলায় সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত চার কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করতে সক্ষম হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই টাকার অঙ্ক আরও বাড়বে।

চাঞ্চল্যকর মন্তব্য কুণালের

কয়লা পাচার মামলায় গ্রেপ্তারির পরই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সমাজ মাধ্যমে তিনি লেখেন, “কয়লা মামলায় যে দুজন সম্প্রতি ইডির হাতে গ্রেপ্তার, তাদের বয়ানে বিজেপির এক শীর্ষনেতার নাম এসেছে। মাসে বিপুল টাকা যেত তাঁর কাছে। ইডি তাঁর বয়ান রেকর্ডের জন্য নোটিস জারির পথে। খবর পেয়ে তিনি গতকাল দিল্লি গিয়েছিলেন সামাল দিতে। এখনও ইডি অফিসে কোনো রক্ষাকবচের বার্তা আসেনি। প্রশ্ন হল, বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ইডি ব্যবস্থা নেবে? নাকি যে কোনো মুহূর্তে দিল্লি থেকেই রাজনৈতিক রক্ষাকবচ এসে যাবে?” আর এই পোস্ট ভাইরাল হতেই জোর আলোচনা শুরু হয় রাজনৈতিক শিবিরে।

আরও পড়ুন: প্রচারে বেরিয়ে ফের বিক্ষোভের মুখে অগ্নিমিত্রা! তোলা হল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে কয়লাপাচার মামলার তদন্ত শুরু করে সিবিআই। রাজ্যে রেলের বিভিন্ন সাইডিং এলাকা থেকে কয়লা চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রথমে আয়কর দফতর, পরে সিবিআই এই নিয়ে তদন্তে নামে। সেই সূত্র ধরেই বেরিয়ে আসে মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার নাম। ইডি জানতে পেরেছে, লালার মাধ্যমে নিজেদের কয়লা-সাম্রাজ্য তৈরি করেছিল চিন্ময়-কিরণ। তবে এখনও বিভিন্ন তথ্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

Leave a Comment