কলকাতা পুরসভার অনুমতি ছাড়া বাড়ির ছাদে লাগানো যাবে না লোহার শেড

Kolkata Municipal Corporation On iron shades on the roofs

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শহর কলকাতার বুকে বাড়ির উপর লোহার শেড বা ছাউনি দিতে গেলে এবার লাগবে কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) অনুমোদন। জানিয়ে দিলেন, মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বলাই বাহুল্য, সাম্প্রতিককালে শহর কলকাতার বাড়িগুলির ছাদে লোহার শেড বা আয়রন শেড লাগানোর প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছে। একজনের দেখাদেখি অন্যজনও নিজের বাড়ির ছাদে বসিয়ে ফেলছেন বিরাট ছাউনি। মূলত সে কারণেই এবার থেকে এই কাজ করতে গেলে পুরসভার থেকে অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

হঠাৎ কেন এমন পদক্ষেপ?

জানা যাচ্ছে, কিছুদিন আগেই কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে শহরে তৈরি বিভিন্ন বাড়িগুলির ছাদে বসানো লোহার শেডের প্রসঙ্গ তোলেন কলকাতার 48 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। তিনি জানান, “কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বহুতলগুলিতে যেখানে সেখানে লোহার শেড বসানোয় ওই বাড়িগুলির স্ট্রাকচারাল ফাউন্ডেশন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই শেডের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। প্রশ্নের মুখে বহুতলগুলির বাসিন্দাদের নিরাপত্তা। এছাড়াও নানান ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভা তাদের প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত থাকছে। তাই কলকাতা পুরসভার অধীনে থাকা বাড়িগুলিতে এই শেড বসানোর জন্য পুরসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা উচিত।”

তৃণমূলের ওই কাউন্সিলর আরও বলেন, বহুতলগুলির স্ট্রাকচারাল ফাউন্ডেশন পর্যবেক্ষণ করার পরই অনুমতি দেওয়া উচিত হবে। এছাড়াও কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত বাড়িগুলিতে আয়ারণ শেড বসানো হলে সেখান থেকে পুরসভার রাজস্ব আদায় করতে পারবে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হোক। যদি সম্ভব হয় অবশ্যই রাজস্বের বিষয়টি দেখতে হবে। মূলত এমন সব প্রস্তাব রাখার পরেই তৃণমূল নেতার পক্ষে মত দেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

অবশ্যই পড়ুন: “ঋণের জন্য দোরে দোরে ঘুরি.. মাথা হেঁট হয়” স্বীকার করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেট মন্ত্রী এদিন সমস্তটা শোনার পর বলেন, “কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত বাড়িগুলিতে আয়রন শেড নির্মাণের আগে ওই বহুতলের স্ট্রাকচারাল ফাউন্ডেশন পরীক্ষা করতে হবে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই পুরসভা KMC রুলস 2009 অনুযায়ী শেড তৈরির অনুমোদন দিলে তবেই কাজ শুরু করা যাবে।” মেয়রের এমন বক্তব্যের পর বেশ কয়েকজন প্রোমোটার থেকে শুরু করে এক বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিক জানিয়েছেন, “খাতায় কলমে এমন বহু নিয়ম রয়েছে পুরসভার। তবে বাস্তবে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না।

Leave a Comment