প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আরও একবার খবরের শিরোনামে উঠে এল স্কটিশ চার্চ কলেজ (Scottish Church College)। সম্প্রতি এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বাঁধল কলেজ চত্বরে। জানা গিয়েছে এক সপ্তাহ আগে কলেজের হস্টেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ঋষিতা নামের এক ছাত্রী। শেষে অচৈতন্য অবস্থায় কোনরকমে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরে চিকিৎসা চলাকালীন সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। আর এবার সেই ঘটনার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে খবর, স্কটিশচার্চ কলেজের হস্টেল থেকে যে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে সে আসলে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাঁর নাম ঋষিতা বণিক। বাড়ি ত্রিপুরায়। গত ২৪ জানুয়ারি কলেজের হস্টেলের মধ্যেই হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। জানা গিয়েছিল ওই ছাত্রী বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। কোনও একটি ওষুধ খেয়েছিলেন। তারপর পেটে ব্যথা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় সিক রুমে। এরপরেই হস্টেলের সিক-রুমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখান থেকেই ঋষিতাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর, কিন্তু সেখানেই ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ!
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কটিশ চার্চ কলেজ তীব্র চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বড়তলা থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ, এছাড়াও নখ ও রক্তের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্যেও পাঠানো হয়েছে। যোগাযোগ করা হয়েছে ওই মৃত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, খাবারের সঙ্গে বিষক্রিয়ার ফলেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তাতেও প্রশ্ন জাগছে বাকিরাও তো সেই খাবার খেয়েছে তাহলে কেন কিছু হচ্ছে না তাঁদের? যদিও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টয়ের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারি থেকে ক্রেডিট কার্ডের নিয়ম বদলাচ্ছে HDFC ব্যাঙ্ক
প্রসঙ্গত, বছর খানেক আগে একটি গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছিল স্কটিশ চার্চ কলেজে। জানা গিয়েছিল ঘটনার মূল ছিলেন নাকি ওই কলেজের এক অধ্যাপক। তিনি নাকি ছাত্রীদের অশ্লীল মেসেজ পাঠাতেন। এমনকি অভিযোগ ওই অধ্যাপক নাকি মূলত দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের টার্গেট করতেন। ছাত্রীদের বিভিন্ন জায়গায় কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন। সেই সময় ওই অভিযোগকে ঘিরে বিক্ষোভে নেমেছিলেন পড়ুয়ারা। যদিও অভিযোগ সত্যি হওয়ায় সাসপেন্ড করা হয়েছিল ওই অভিযুক্ত অধ্যাপককে।