সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আপনিও কি রোজ কল্যাণ এক্সপ্রেসওয়ের (Kalyani Expressway) ওপর দিয়ে যাতায়াত করেন? তাহলে আপনার জন্য রইল জরুরি খবর। আসলে এবার দুর্ঘটনা রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। যার ফলে সাধারণ মানুষের একটু অসুবিধা হলেও তাঁদের প্রাণ রক্ষার্থে প্রশাসন বিশেষ ঘোষণা করেছে। এখন আপনিও নিশ্চয়ই ভাবছেন যে প্রশাসন কী ঘোষণা করেছে? তাহলে বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।
কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ বাইক, ভ্যান চলাচল
জানা গিয়েছে, এবার কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে বাইক, ভ্যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটরের তরফে এখন মূল রাস্তায় বেশ কিছু যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাস্তা জুড়ে কিছুটা পরপর পোস্টার সেঁটে সংশ্লিষ্ট চাকলদের সার্ভিস রোড ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে পুলিশের তরফে জানানো বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হবে সাধারণ মানুষকে।
আরও পড়ুনঃ শিয়ালদা বারাণসী অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের ঘোষণা রেলের, জানুন রুট ও সময়সূচি
আসলে মুড়াগাছা থেকে কাঁপা মোড় পর্যন্ত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চলাচল করছে। গাড়ির গতি কমানোর জন্য স্পিড লিমিট বা ক্যামেরা বসানো হলেও পরোয়া করছে না কেউই। মসৃণ রাস্তা দেখেই বাইক, বাসের গতি বাড়াচ্ছেন চালকরা। যার ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে। পুলিশের হিসেবে অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় পড়ছেন বাইক চালকরা। ফলে এবার দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে মূল রাস্তায় রুট-বাস, বাইক, ভ্যান ও সাইকেল নিষিদ্ধ করা হল।
বিকল্প পথ কী?
এখন থেকে রুট-বাস, বাইক, ভ্যান ও সাইকেলকে সার্ভিস রোড দিয়ে চলাচলের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এর জন্য বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় এইসব যানবাহনকে সার্ভিস রোড ব্যবহারের জন্য ফ্লেক্স, ব্যানার অবধি লাগানো হয়েছে। সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে নাকা চেকিংয়ের মাধ্যমে ওই সমস্ত গাড়িকে সার্ভিস রোড ধরার জন্য বলা হচ্ছে। এর ফলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে বলে ট্রাফিক পুলিশের কর্তারা মনে করছেন।
আরও পড়ুনঃ ফিক্সড ডিপোজিট থেকে ১ লাখের বেশি সুদ পেলেও দিতে হবে না TDS! জেনে নিন নিয়ম
এই প্রসঙ্গে বড় তথ্য দিয়েছেন বারাকপুর ট্রাফিক পুলিশের ডিসি অম্লানকুসুম ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা চাইছি, সমস্ত বাইক সার্ভিস রোড দিয়ে চলাচল করুক। মূল রাস্তায় সেগুলি যেন না ওঠে। তাহলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়াও যে সমস্ত রুট বাস চলাচল করে, সেগুলি সার্ভিস রোড দিয়ে যাতায়াত করুক এবং যাত্রী ওঠানামা করুক। ভ্যান ও সাইকেল যেন কোনওভাবেই মূল রাস্তায় যেতে না পারে। সেগুলিকে সার্ভিস রোড দিয়ে যাতায়াত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন জায়গায় বোর্ড লাগানো হয়েছে, পরে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’