কাঁধে করে এল বাহন, গ্রামে প্রথমবার চলবে গাড়ি, বেজায় খুশি চুনাভাটির বাসিন্দারা

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বর্তমান বিশ্বে একটা ছেড়ে আরেকটা গাড়ি কেনার ঝোঁক বেড়েছে সাম্প্রতিককালে। এমন বহু মানুষ রয়েছেন যাঁরা একটি বিলাসবহুল গাড়ি এক বছরের বেশি ব্যবহার করেন না। কেউ আবার আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি নিয়েই জীবনের প্রথম ফোরহূইলারের শক মেটান। তবে বাংলাতেই এমন এক গ্রাম রয়েছে, যে গ্রামে এর আগে কোনও দিনও গাড়ায়নি গাড়ির চাকা। চার চাকা কী সেটাই জানেন না পশ্চিমবঙ্গের ওই গ্রামের মানুষ। এবার আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) বক্সা পাহাড়ের দুর্গম জনপদ চুনাভাটিতে পৌঁছল প্রথম গাড়ি। যা দেখে একেবারে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন বাসিন্দারা।

কাঁধে করে গ্রামে পৌঁছল গাড়ি

পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের বক্সা পাহাড়ের চুনাভাটিতে পৌঁছানো মুখের কথা নয়। অন্তত 2700 ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই এলাকায় যেতে হলে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পাহাড়ি পথ। ভালচেন থেকে চুনাভাটির দূরত্ব একেবারে 3 কিলোমিটার। তাছাড়া সান্তালবাড়ি থেকে যাওয়ার সময় দুই কিলোমিটার পথ অত্যন্ত ভয়ংকর। এই পথে গাড়ি কেন ঠিকমতো হেঁটে যাওয়াও দুষ্কর। সেই পথ দিয়েই গাড়ি নিয়ে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত চুনাভাটিতে গিয়েছেন গ্রামবাসীরা। না চালিয়ে নয়, বরং গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রথম গাড়িটিকে।

বলাই বাহুল্য, আলিপুরদুয়ারের বক্সা পাহাড়ের চুনাভাটিতে যোগাযোগের পথ অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়েছিলেন সেখানকার গ্রামবাসীরা। দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য গাড়ি কিনতে চাঁদা তুলে 90 হাজার টাকা জোগাড় করেছিলেন তাঁরা। সেই অর্থ দিয়েই একটি সেকেন্ড হ্যান্ডগাড়ি ভয়ংকর পাকদন্ডি পথ দিয়ে নিয়ে যান নিজ গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সাঁন্তালবাড়ির দিকে দুই কিলোমিটার পথ ভয়ানক হওয়ায় গাড়ির পার্টস খুলে সেগুলি কাঁধে করে নিয়ে সেই পথ পার করেন তারা। পরবর্তীতে স্থানীয় এক মেকানিক এর সহায়তায় গাড়ি পুনরায় ফিট করে গ্রামে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

অবশ্যই পড়ুন: হয়েছে পিতৃবিয়োগ, বিশ্বকাপে রিঙ্কু সিংকে আর পাচ্ছে না টিম ইন্ডিয়া?

জানা গিয়েছে, আপাতত দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের জন্য চুনাভাটি গ্রাম থেকে ডাল সেন পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তায় চালানো হবে ওই গাড়িটি। যদিও ডালচেন পর্যন্ত পৌঁছনো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তবুও গ্রামবাসীরা মনে করছেন জরুরি অবস্থায় রোগী থেকে শুরু করে পড়ুয়া এমনকি অন্যান্য আপদকালীন পরিস্থিতিতে সকলের কষ্ট লাঘব করবে এই গাড়ি। তাছাড়াও মাঝেমধ্যেই স্থানীয়দের কয়েকজনকে নিয়ে ডালচেন পর্যন্ত ভ্রমণ করা যাবে এই গাড়িতে। শত হোক গ্রামের প্রথম গাড়ি বলে কথা।

Leave a Comment