প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান! দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিত এবং স্থানীয় মানুষের স্বপ্নের মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার পৌষ সংক্রান্তির আগে গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন। সেখানেই ১৭০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের সূচনা করেন মমতা। তিনি জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেই এই বিশাল খরচের যোগান দেওয়া হচ্ছে। শীঘ্রই শুরু হবে কাজ।
বাম সরকারকে দুষলেন মমতা
গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম আমলের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, “২০১১ সালের আগে পরিকাঠামো ছিল অত্যন্ত খারাপ। তখন বলা হত, লোডশেডিংয়ের সরকার, আর নেই দরকার। সেই সরকারও আর নেই, আর বাংলায় কখনও লোডশেডিংও হবে না। মনে রাখবেন, আমরা ক্ষমতায় এসে এখানকার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। আমরা শুধু মুখে বলি না। কাজে করে দেখাই। হাজারও প্রতিকূলতা রয়েছে এখানকার মানুষের। তাই এই সেতু নির্মাণ জরুরি ছিল।” উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সাগরের মাটিতেই দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উদ্যোগে এই সেতু তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারই নিজের উদ্যোগে গঙ্গাসাগর সেতু গড়ে তুলবে। অবশেষে শিলান্যাস হল এই সেতুর।
SIR নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন SIR নিয়েও মুখ খুলেছেন। সেখানে তিনি বলেন, “যে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অধিকার ছিল ৭-৮ নম্বর ফর্ম ফিলআপ করার। AI দিয়ে নাম কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদবি বদলে দিলে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” এছাড়াও শুনানি চলাকালীন অসুস্থ এবং বয়স্ক মানুষের দুরাবস্থা নিয়েও সরব হন মমতা। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “নাকে নল লাগিয়ে বয়স্ক ব্যক্তিরা হিয়ারিংয়ে যাচ্ছেন, ৮৫-৯০ বছরের মানুষদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, গর্ভবতী মহিলাদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হচ্ছে। কেন তাঁদের এত বছর ভোট দেওয়ার পর নিজেদেরকে নাগরিক প্রমাণ করতে হবে?”
আরও পড়ুন: কাশ্মীরে বন্দী ৫ বাঙালি শ্রমিক, মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকি ঠিকাদারের
মৎস্যজীবীদের সমস্যা নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, “এখানকার মৎস্যজীবীরা কখনও কখনও ওপারে যায়, আর জেলে আটকে পরে থাকে। আমরা ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। বিজেপি কিছুই করে না, শুধু ভোটের সময় আসে।” প্রসঙ্গত, মুড়িগঙ্গার উপর গঙ্গাসাগর ব্রিজটি হতে চলেছে দীর্ঘ চার লেনের। ব্রিজের দু’দিকে থাকবে ১.৫ মিটার চওড়া ফুটপাত। মোট আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে সেতুর নকশাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। দায়িত্বে থাকছে নির্মাণ সংস্থা এল অ্যান্ড টি। জানা গিয়েছে, সেতুটি দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা নিবেদিতা সেতুর আদলে তৈরি করা হবে। জানা গিয়েছে, আগামী চার বছরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।