কানাডা, ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ বলে দাবি ট্রাম্পের

Donald Trump

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মঙ্গলবার তিনি এমন এক মানচিত্র পোস্ট করলেন, যেখানে কানাডা, ভেনেজুয়েলা এবং গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর সেই পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। হ্যাঁ, ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এই মানচিত্রটি পোস্ট করেছেন, যেটি এআই দিয়ে বানানো বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে চলা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই পোস্ট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা

এদিকে মানচিত্র পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প একটি ছবিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা পুঁতছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকি তাঁর পাশে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন রুবিও। পাশাপাশি ওই ছবির ক্যাপশনে লেখা “Greenland US Territory Est 2026”। আর এই পোস্টের পর ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে পড়েছে উদ্বেগের ছায়া। কারণ, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের আওতায় হলেও ন্যাটোর নিরাপত্তার অংশ।

আরও পড়ুনঃ কানাডা, ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ বলে দাবি ট্রাম্পের

এদিকে ক্ষমতায় ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। গত বছর তিনি প্রকাশ্যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম রাজ্য করা হোক। কিন্তু কানাডা সরকার সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছিল। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ ফের তীব্র আকার ধারণ করে। তবে এই নতুন মানচিত্রে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানোর কারণে সেই পুরনো ক্ষত যে আবারও উসকে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ভেনেজুয়েলা নিয়ে স্পষ্ট দাবি ট্রাম্পের

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে সেখানকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে ওয়াশিংটনে নিয়ে এসেছিল। এমনই দাবি করা হয় মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে। এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ ছিল। এরপর থেকে ট্রাম্প দাবি করে আসেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং নিজেকে তিনি ভেনেজুয়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও ঘোষণা করেন। তবে ভেনেজুয়েলাকে সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো এই প্রথমবার।

আরও পড়ুন: “দেব-শুভশ্রীর বিয়ে হলে ভালো হত…” মন্তব্য রাজ চক্রবর্তীর, সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো?

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের বিশাল এলাকা খনিজ সম্পদ এবং মার্কিন নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ইতিমধ্যে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং ডেনমার্কের সঙ্গেও নিরাপত্তা চুক্তি কার্যকর। তবে সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার কারণে তিনি আর শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নন। এই মন্তব্যের পর গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টা প্রকাশ্যে আসে।

Leave a Comment