কালিয়াচক কাণ্ডে উস্কানি, পালাতে গিয়ে গ্রেফতার ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলাম

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের আবহে (West Bengal Election 2026) বড় চমক! মালদহের কালিয়াচকে অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলামকে (Mofakkerul Islam) গ্রেফতার করল CID। শুক্রবার সকালে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও ঘটনা অস্বীকার করছেন মোফাক্কেরুল।

ঠিক কী ঘটেছিল?

সূত্রের খবর, গত বুধবার রাতে মালদহের কালিয়াচকে স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা ৭ জুডিশিয়াল অফিসারদের গাড়ি ঘিরে ধরে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল। প্রায় সারারাত গাড়ির ভেতরেই বন্দি ছিল সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক। শেষমেশ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁদের সেই ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে। অভিযোগ, উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও বিচারকদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি করা হয়। এই ঘটনার রেশ গড়ায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজ্যের মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে শোকজ করার পাশাপাশি মালদহের ডিএম ও এসপি-র বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করেছে কমিশন।

গাড়ির বনেটে উঠে ভাষণ মোফাক্কেরুলের

মালদহের মোথাবাড়ির এই নজিরবিহীন অশান্তির জেরে পুলিশ ইতিমধ্যেই মোথাবাড়ির ISF প্রার্থী শাহজাহান আলী কাদরী-সহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে এই মুহূর্তে প্রশাসনের প্রধান নজরে রয়েছেন পেশায় কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম। অভিযোগ তিনি নাকি সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিয়েছেন SIR এর প্রতিবাদ করার জন্য। তাঁকে ওইদিন একটি গাড়ির বনেটে উঠে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছিল। যেটি উস্কানিমূলক ছিল। জানা গিয়েছে, মোফাক্কেরুল ইসলাম AIMIM-এর সক্রিয় সদস্য। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার কেন্দ্র থেকে তিনি মিমের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রশ্ন উঠছে ইটাহারের বাসিন্দা হলেও কেন তিনি কালিয়াচকে গিয়ে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিলেন? যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুল ইসলামের নামে গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তার পর থেকে পুলিশ তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছে। বৃহস্পতিবার মোফাক্কেরুলকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। জবাব দেননি মোবাইল-বার্তারও। শেষে আজ, শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালানোর চেষ্টা করছিলেন, তখনই ধরে ফেলে পুলিশ। বৃহস্পতিবার SIR মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট মালদহের ঘটনার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে। এনআইএ বা সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিতে বলা হয়।

আরও পড়ুন: ব্যাঙ্কে যাওয়ার পথে উধাও পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়! অপহরণ? তদন্তে পুলিশ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে। জ্ঞানেশ কুমারের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন পুলিশ আধিকারিকেরা। শেষ পর্যন্ত মালদহ কাণ্ডে NIA-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এদিকে মালদহের মোথাবাড়ির এই নজিরবিহীন অশান্তি কাণ্ডের গ্রেফতারের পরেই নিজেকে নির্দোষ হিসাবে দাবি করেছেন আইএসএফ প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, “ISF এর হয়ে দাঁড়ানোয় মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি ওইদিন কলকাতা থেকে আলিপুরদুয়ার যাচ্ছিলাম তখনই আমি ওই আন্দোলনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম।”

Leave a Comment