সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা। এক প্রভাবশালী জমিদারের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তরুণ হিন্দু কৃষক কৈলাস কোলহি (Hindu Farmer Murdered in Pakistan)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু এবং হিন্দু সমাজের ওপর নির্যাতনের ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সিন্ধুর পিরু লাশারি এলাকার রাহো কোলহি গ্রামে। অভিযোগ উঠছে, স্থানীয় জমিদার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি সরফরাজ নিজামানি তাঁর জমিতে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর তৈরি করাকে কেন্দ্র করেই হিন্দু কৃষককে বুকে গুলি করে হত্যা করেছে।
গ্রেফতার হয়নি অভিযুক্ত
সবথেকে বড় ব্যাপার, এই ঘটনার চার দিন কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আর বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনওরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। সেই কারণে প্রতিবাদকারীরা বাদিন-হায়দ্রাবাদ জাতীয় সড়ক থেকে শুরু করে বাদিন-থর কোল জাতীয় সড়কে বিক্ষোভে শামিল হয়েছে। এমনকি ধর্নায় বসেছে তারা। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহন আটকে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, অভিযুক্ত জমিদারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং হত্যা ও সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা দায়ের করতে হবে। পাশাপাশি ওই নিহত পরিবারকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: টিকিট বিক্রি ছাড়াও শতদ্রুর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল আরও ১০ কোটি, কোথা থেকে এল?
প্রসঙ্গত, এই হত্যাকাণ্ডকে বর্বর বলেই আখ্যা দিয়েছেন সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠন পাকিস্তান দরবার ইত্তেহাদের চেয়ারম্যান শিব কাচ্চি। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, এই প্রতিবাদ শুধুমাত্র ধর্না নয়, বরং আহত ওই কৃষকের আর্তনাদ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে শিশুরা রাস্তায় ন্যায় বিচারের দাবিতে নামছে। কৈলাস কোলহির একমাত্র অপরাধ ছিল তিনি দরিদ্র, প্রান্তিক এবং শক্তিশালীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় বেঁচে থাকার একটু সাহস দেখিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: শিয়ালদা বারাণসী অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের ঘোষণা রেলের, জানুন রুট ও সময়সূচি
উল্লেখ্য, এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে পাকিস্তানের একাধিক রাজনৈতিক থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পাকিস্তান তেহরিক ইনসাফ, পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ, জিয়ে সিন্ধ মহাজ, কওমি আওয়ামি তেহরিক, জেয়ে সিন্ধ কওমি মহাজ এবং আওয়ামি তেহরিক। আর এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ যে তুঙ্গে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারে কিনা পাকিস্তান পুলিশ।