কেন বিমান দুর্ঘটনা? যে সাত সম্ভাব্য কারণে মৃত্যু হল অজিত পাওয়ারের

7 possible reasons behind Ajit Pawar Plane Crash

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বুধবার, সকাল সকাল বিমান দুর্ঘটনায় ঘুম ভেঙেছে দেশবাসীর। মহারাষ্ট্রের বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় আচমকা ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের একটি ব্যক্তিগত বিমান (Ajit Pawar Plane Crash)। আর তাতেই মৃত্যু হয়েছে NCP নেতা সহ আরও 5 জনের। প্রাথমিকভাবে অজিত সহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে ভারতের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ জানায়, দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা 6 জন অর্থাৎ প্রত্যেকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কেন হঠাৎ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল।বিমানটি? এর নেপথ্যে অনেকেই খারাপ আবহাওয়াকে দায়ী করছেন। তবে এবার অজিত পাওয়ারের বিমানের দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিশেষজ্ঞরা।

এই সাত কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে NCP নেতার বিমান!

বুধবার, ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর বিমান বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা সেই দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। বিমান বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের দাবি, মূলত সাতটি কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়েতে পারে বিমানটি। তবে তাঁরা জানিয়েছেন এই সবগুলিই সম্ভাব্য কারণ। বিমান দুর্ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, যে সাত কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল বিমানটি-

প্রথম কারণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘন কুয়াশা, ভারী বৃষ্টিপাত বা মেঘের পুর স্তরের কারণে পাইলট রানওয়ে এবং পর্বত সহ আশেপাশের বাঁধাগুলি স্পষ্টভাবে দেখতে পারছিলেন না। মূলত প্লেনটি অবতরণের সময় ঘন কুয়াশার কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। হয়তো সে কারণেই দুর্ঘটনা এড়িয়ে যেতে পারলেন না চালক।

দ্বিতীয় কারণ

বিমান দুর্ঘটনার দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বাতাসের গতি পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁদের বক্তব্য, খারাপ আবহাওয়া অর্থাৎ কিছু মুহূর্তের মধ্যেই বাতাসের গতি পরিবর্তনের কারণে অবতরণের সময় চালক বিমানে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। তার ফলেই ভেঙে পড়ে সেটি।

তৃতীয় কারণ

বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে টার্বুলেন্সকে। আসলে কুমুলোনিম্বাস অর্থাৎ শক্তিশালী বাতাসের উলম্ব আন্দোলন বা বিচরণের কারণে বিমানের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সমস্যা হয় চালকের। বিশেষ করে ছোট বা মাঝারি বিমানের জন্য বাতাসের এই ধরনের গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত বিপদজনক।

চতুর্থ কারণ

বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে বজ্রপাতের বিষয়টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের কারণে অনেক সময় বিমানের ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম বা সেন্সরগুলি প্রভাবিত হয়। ফলস্বরূপ, বিমান ক্র্যাশ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অজিত পাওয়ারের বিমানের ক্ষেত্রে এমনটা হলেও হতে পারে।

পঞ্চম কারণ

ঠান্ডা এবং আর্দ্র আবহাওয়া ও তুষারপাতের কারণে বিমানের ইঞ্জিন হিমশীতল হয়ে যায়। এর ফলে ধীরে ধীরে বিমানের কর্মক্ষমতা কমে আসে। যার ফলে বিমান ক্র্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্ঘটনাটি যেহেতু অবতরণের সময় ঘটেছিল ফলে সেক্ষেত্রে ইঞ্জিন আইসিংয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।

ষষ্ঠ কারণ

বুধবারের বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চালক বা পাইলটের মানসিক অবস্থার বিষয়টিও উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, অনেক সময় ঘন মেঘ বা অন্ধকারের কারনে বিমান চালাতে সমস্যা হলে অনেক ক্ষেত্রে বিমান দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়েন চালকরা। তাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

অবশ্যই পড়ুন: মদ খেয়ে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা, প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারকে গ্রেফতার করল পুলিশ

সপ্তম কারণ

বুধবারের বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নেভিগেশন বা ইন্সট্রুমেন্ট ব্যর্থতা অর্থাৎ যান্ত্রিক ত্রুটিকেও উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায়, বিমানে বৈদ্যুতিক গোলযোগ, সেন্সর বা রাডারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে পাইলট নিজের পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা পান। তাতে বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তবে এই সাত কারণকে বিমান দুর্ঘটনা এবং তার কারণে অজিত পাওয়ার সহ 6 জনের মৃত্যুর নিতান্তই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

Leave a Comment