সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নানারকম কৌতূহল থেকে যায় সাধারণ মানুষের। ঠিক সেই আবহে প্রশ্ন উঠছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে। কারণ, এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তিনি আজ নিজেই আইনজীবী হয়ে সওয়াল করেছেন। তাহলে কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ঝুলিতে এল.এল.বি ডিগ্রি রয়েছে? তিনি কি সত্যিই একজন আইনজীবী? এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দেওয়া হয়ে থাকে। আর সেই অনুযায়ী প্রকাশ্যে আসলো মুখ্যমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষাগত যোগ্যতা কী রয়েছে?
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার হলফনামা জমা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। সেই অনুযায়ী জানা যায়, ১৯৭০ সালে কলকাতার দেশবন্ধু শিশু শিক্ষালয় থেকে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এরপর ১৯৭৪ সালে যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর ১৯৭৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। এরপর ১৯৮০ সালে শ্রী শিক্ষাতন কলেজ থেকে কর্মশিক্ষায় বিএড প্রশিক্ষিত হন। তারপর ১৯৮২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজ অফ ল থেকে তিনি এল.এল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তবে হ্যাঁ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এল.এল.বি ডিগ্রি অর্জন করলেও তিনি কোনও আইনজীবী নন। অর্থাৎ, তিনি প্র্যাকটিসিং আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব সামলাতে পারেন না। আজ তিনি শুধুমাত্র সাধারণ আবেদনকারী হিসাবেই এই মামলা লড়েছেন। মোদ্দা কথা বলতে গেলে, তিনি কোনও রাজ্য বা বার কাউন্সিলে ভর্তি হননি। তাই অল ইন্ডিয়া বার পরীক্ষা পাস করেননি। এমনকি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া থেকে প্রাক্টিস সার্টিফিকেটও পাননি। তাই তাঁকে প্র্যাকটিসিং অ্যাডভোকেট হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

আরও পড়ুন: আর অপেক্ষা করবে না TTE, সুবিধা হবে RAC বা ওয়েটিং টিকিটের যাত্রীদের! নয়া নিয়ম রেলের
এল.এল.বি করলে কি আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা যায়?
এবার অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, এল.এল.বি করলেই হয়তো আদালতে নিজের বক্তব্য পেশ করা যায়! তবে না, ভারতে এল.এল.বি ডিগ্রি মানে একজন ব্যক্তি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছে তার প্রমাণ। কিন্তু এটি আদালতে মামলা করা, বিচারকের সামনে তর্ক করার কোনও অধিকার দেয় না। আদালতে তর্ক করার অধিকার শুধুমাত্র অ্যাডভোকেট অ্যাক্ট ১৯৬১ এবং বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া দ্বারায় নির্ধারণ করা হয়।