ক্রমেই চড়ছে পারদ, আশাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে!

Swasthya Bhawan Abhijan

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে জোরকদমে চলছে রাজনৈতিক প্রস্তুতি। মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসনকে পাখির চোখ করে জনসংযোগ বৃদ্ধিতে একের পর এক কর্মসূচি করেই চলেছে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধীদল গুলি। এমতাবস্থায় আশাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হল স্বাস্থ্যভবন চত্বরে (Swasthya Bhawan Abhijan)। ব্যারিকেড ভেঙে ভবনে ঢুকতে গিয়ে পুলিশের হাতে রীতিমত মারধর খেতে হল আশাকর্মীদের।

পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি আশাকর্মীদের

রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকে দফায় দফায় স্বাস্থ্যভবন অভিযানকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এমনকি শিয়ালদহ স্টেশনে আশাকর্মীরা পৌঁছালে সেখানে জিআরপি তাঁদের আটকায় বলেও অভিযোগ। কয়েকজন পুলিশের নজর এড়িয়ে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পৌঁছালে সেখানে শুরু হয় পুলিশের ধরপাকড়। এদিকে যেহেতু এই কর্মসূচি পূর্ব ঘোষিত। তাই আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল পুলিশ। স্বাস্থ্যভবনের বাইরে লোহার দুর্গ, ব্যারিকেড করে রাখা হয়েছিল। যার ফলে উত্তেজনায় চরম আকার নেয়। অসুস্থ হয়ে পড়ে একাধিক কর্মচারী। বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, এমনকি উত্তরবঙ্গ থেকেও বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা।

বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি কর্মীদের

স্বাস্থ্যভবনে ঢুকতে না পারার কারণে বিক্ষোভকারীরা ভবনের সামনের রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ গাড়িতে তোলে। রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারী আশাকর্মীদের অভিযোগ, আজ বৈঠক না হলে আগামী দিনে কর্মবিরতি চলবে, এমনকি বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, মূলত বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলনে সামিল রয়েছেন আশাকর্মীরা। এই মুহূর্তে তাঁরা প্রত্যেকে ৫২৫০ টাকা বেতন পান। কিন্তু বর্তমান বাজারে সেই টাকায় তাঁদের চলে না, তাই অন্ততপক্ষে ১৫ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

ভোটের ক্ষমতা নিয়েও সরকারকে নিশানা

আটক করা এক বিক্ষোভকারী আশাকর্মী পুলিশের গাড়ির ভিতর দাঁড়িয়েই জানান, “ আমরা ৮০ হাজার আশাকর্মী রয়েছি। ২০২৬ সালে আমরা দেখে নেব। আমরা জবাব চাই, আমরা চুরি করিনি, ন্যায্য আদায় করতে এসেছি।” আরেক বিক্ষোভকারীর কথায়, “আমরা তো চোর ডাকাত নই, পুলিশে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, আমাদের ন্যায্য অধিকারটা বুঝে নিতে এসেছিলাম বলে। যতই ধরপাকড় করে করুক, দেখি সরকার আমাদের জন্য কী করে। আমরা এখানেই বসে থাকব।” অন্যদিকে পুলিশি ধরপাকড় এড়াতে অভিনব কৌশল নেন আরামবাগ, গোঘাট ও খানাকুলের আশাকর্মীরা। নিজেদের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম ছেড়ে সাধারণ পোশাকে ট্রেনে চড়েন তাঁরা। ফলে রেলপথে বাঁধার মুখে পড়তে হয়নি তাঁদের।

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে রাজ্য, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর আশাকর্মীরা বৈঠকের জন্য সময় চেয়েছিলেন কিন্তু স্বাস্থ্য সচিব জানান তিনি ছুটিতে থাকবেন। তাই ২১ তারিখ আসতে বলা হয়েছিল। সেইমতোই আজ স্বাস্থ্যভবন অভিযান কর্মসূচি নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু আন্দোলনের পরিণতি যে এতটাই ভয়ংকর হবে তা ভাবতে পারেনি কেউ। বহু আশাকর্মী অনেক দূর থেকে এসেছে। মালদহ, কেউ মেদিনীপুর- নানা জেলা থেকে এদিন স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছানোর কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু অভিযোগ, স্টেশনেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়।

Leave a Comment