খাসির বলে গোমাংস খাইয়েছিল বন্ধু আফতাব! রেগে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা বীরেন্দ্রর

Uttar Pradesh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বারাণসীতে সাথে ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা। গোমাংস খাওয়ানোর অভিযোগে এক যুবক নিজের বন্ধুকে নির্মমভাবে খুন করল। হ্যাঁ, এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। কিন্তু ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছে?

জানা যাচ্ছে, বারাণসীর বাসিন্দা ২৪ বছরের বীরেন্দ্র যাদবকে সম্প্রতি সিন্ধৌরা থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তিনি ২৮ বছরের আফতাব আলমকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে একটি ফাঁকা মাঠে দেহ ফেলে দেয়। নিহত আফতাব আলাম বিহারের ছাপরা জেলার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী খবর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আফতাব প্রতারণা করে নাকি বীরেন্দ্রকে গোমাংস খাইয়ে দিয়েছিল। পরে সেই বিষয়টি অন্যদের জানানোর কারণে সমাজে অপমান এবং হাসির পাত্র হতে হয় বীরেন্দ্রকে। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি খুনের পরিকল্পনা করে ফেলেন।

মাঠ থেকে উদ্ধার হয় দেহ

গত ২৮ জানুয়ারি সিন্ধৌরা এলাকায় একটি টিউবয়েলের পাশে থাকা একটি মাঠ থেকে আফতাবের দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তবে দেহের পাশে থাকা একটি ব্যাগে পাওয়া গিয়েছিল তাঁর পরিচয়পত্র। যার মাধ্যমে মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। তারপর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় এবং পরিবারের সদস্যদেরকে খবর দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতের কল ডিটেইলস এবং ব্যাঙ্ক ট্রানজেকশন খতিয়ে দেখেছিল। আর সেখানে দেখা যায়, আফতাব নিয়মিত যোগাযোগ রাখত বীরেন্দ্রর সঙ্গে। এমনকি দেহ উদ্ধারের দিন আফতাব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ হাজার টাকা বীরেন্দ্রের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেছিল।

এদিকে আফতাবের পরিবার এই ঘটনায় ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিতে চায়নি। তাঁর বাবা কালামুদ্দিন স্পষ্টভাবে দাবি করেন, আমার ছেলেকে টাকার জন্যই খুন করা হয়েছে। গোমাংস খাওয়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পরিবার অভিযোগ করছে, আফতাবের গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে গিয়েছে এবং বীরেন্দ্র তাঁর ছেলের দুইটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিয়েছে। এছাড়াও আফতাব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন। এর আগে কখনও এমন কোনও অভিযোগ ওঠেনি বলে দাবি।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মামলায় বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, দুজন আগে বেঙ্গালুরুতে একটু বেসরকারি সংস্থায় কাজ করত। পরে আফতাবের চেন্নাইতে পোস্টিং হয় আর বীরেন্দ্র গুজরাটে চলে যায়। গত ৭ জানুয়ারি আফতাব বিহার থেকে কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিল। সেই সময় বীরেন্দ্র তাঁকে বারাণসীতে আসতে বলে এবং নিজের কাজ থেকেও ছুটি নেয়। তারপর বারাণসী স্টেশনে দেখা হওয়ার পর বীরেন্দ্র এবং তাঁর এক সহযোগী মোটরবাইকে করে আফতাবকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। আর সেখানেই দড়ি দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে তাঁকে হত্যা করা হয় এবং দেহ মাঠে ফেলে দেওয়া হয়।

Leave a Comment