প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের আবহে হাওয়া গরম বঙ্গ রাজনীতির। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার দখলের লড়াইয়ে ওত পেতে রয়েছে বিরোধীরা, তবে চেয়ার ছাড়তে নারাজ মমতা দল। এমন অবস্থায় ফের খবরের শিরোনামে চারা দিয়ে উঠল ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু (Beldanga Migrant Labour Death) ঘটনা। যা নিয়ে উত্তাল ছিল বেলডাঙা। এবার সেই ঘটনায় নিল নয়া মোড়। জানানো হয়েছে, গণপিটুনিতে নয় বরং মানসিক অবসাদেই আত্মহত্যা করেছেন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ।
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুরহস্য নিয়ে তদন্ত
ঝাড়খণ্ডে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু নিয়ে গত শুক্রবার থেকে টানা দু’দিন অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা-সহ মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশ। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ ছিল যে স্থানীয়রা ক্রমাগত ভাঙচুর, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা করে চলেছিল। শেষে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনের জন্য ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ফোন করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুততার সঙ্গে ঝাড়খণ্ড পুলিশ তদন্তে নেমেছিলেন। অবশেষে প্রকাশ্যে এল পরিযায়ী শ্রমিকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, যা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
বিস্ফোরক তথ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্টে
জি ২৪ ঘণ্টার রিপোর্ট মোতাবেক, মুর্শিদাবাদের পুলিসের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT ঝাড়খণ্ডে গিয়ে মৃত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করে। আর সেই তদন্তে সাহায্য করে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। রিপোর্ট মোতাবেক, ঝাড়খণ্ডের পলমু জেলার বিশ্রামপুর থানা এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন আলাউদ্দিন শেখ। এলাকার ৮-১০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়, কিন্তু তারা খুনের কোনও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেননি। শেষে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, জীবিত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগানোর ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। অর্থাৎ নিছক মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যা করেছে এই শ্রমিক।
আরও পড়ুন: বাংলায় ফের চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ! গ্রেফতার অভিযুক্ত
ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকের এই মৃত্যু ঘিরে বেলডাঙায় একাধিক গুজব রটেছিল। এমনকি পরিবারের তরফেও বলা হয়েছিল যে তাঁকে পিটিয়ে মেরে পরে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে আসল সত্যি জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে, মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার সানি রাজ জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের প্রতিনিধিদল ঝাড়খণ্ডে গিয়ে তদন্তকারী আধিকারিক এবং নিহতের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমাদের হাতে আসার পরে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।’’