গঙ্গাসাগর মেলায় হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজতে ব্যবহার হবে DMR! বড় উদ্যোগ প্রশাসনের

Gangasagar Mela

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আজ অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela)। যা চলবে টানা এক সপ্তাহ ধরে। এই ক’টা দিনের জন্য সাগর মেলায় যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে ক্রমাগত নজর রাখছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা পর্যবেক্ষণ করে গিয়েছেন এলাকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা৷ বাড়ানো হয়েছে পুণ্যার্থীদের জন্য নিরাপত্তার কড়াকড়ি। আর এবার উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য প্রশাসন নিয়ে এসেছে এক দারুণ প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে গঙ্গাসাগরে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে।

হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজতে নয়া উদ্যোগ

গঙ্গাসাগর মেলা মানেই লক্ষ লক্ষ ভক্ত এবং দর্শনার্থীর সমাগম। এমন বড় আয়োজনে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়। তাই এ বার আরও বেশি সতর্ক প্রশাসন। নেওয়া হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য। গঙ্গাসাগরে ডুব দিতে গিয়ে যাতে কেউ বিপদে না পড়েন, সে দিকে নিরাপত্তারক্ষীরা তো নজর রাখবেনই। তার পরেও দুর্ঘটনা হলে এগিয়ে যাবে রিমোট চালিত ‘লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন’। শুধু তাই নয়, গঙ্গাসাগরে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজতে নয়া উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত ও গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে ডিএমআর অর্থাৎ ডিজিটাল মোবাইল রেডিও পদ্ধতি।

কী বলছেন রেডিও ক্লাবের সম্পাদক?

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিজিটাল মোবাইল রেডিওর মাধ্যমে সরাসরি দেশের যে কোনও প্রান্তে নিমেষে বার্তা ও এসএমএস পাঠানো সম্ভব হবে। এবং নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিকেও সহজেই খুঁজে আনা সম্ভব হবে। এতদিন ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের হ্যাম অপারেটরেরা গঙ্গাসাগর মেলায় আ্যানালগ পদ্ধতি ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া পুণ্যার্থী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের তথ্য দেশজুড়ে পৌঁছে দিতেন। এবার সেই পদ্ধতি আরও সহজ হবে। রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস জানান, মেলায় নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগে গঙ্গাসাগরে দিনরাত কাজ করে চলেছেন ক্লাবের সদস্য জয়ন্ত বৈদ্য, দিবস মন্ডলরা।

আরও পড়ুন: হিন্দমোটরে বন্ধ কারখানায় নাবালিকাকে ধর্ষণ, পুলিশের জালে হুগলীর তৃণমূল কর্মী

প্রসঙ্গত, গঙ্গাসাগর মেলা শুরুর আগেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধু-সন্ন্যাসী ও পুণ্যার্থীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। বাবুঘাট-সহ একাধিক জায়গায় গঙ্গাসাগরমুখী মানুষের জমায়েত দেখা গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে ভিড়ের পরিমাণও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। ফলে আগের অ্যানালগ পদ্ধতিতে কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোয় এবার বেশ সমস্যা হতে পারে। তাই বার্তা আদান-প্রদানে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে তার জন্য নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা রাখছি জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

Leave a Comment