প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তা প্রদানে এখনও অপারগ কেন্দ্র এবং রাজ্য। প্রায়শই খবরের শিরোনামে উঠে আসে শ্লীলতাহানির ঘটনা। আর এই আবহে ফের রাজধানীর বুকে এক নাবালিকার উপর পাশবিক অত্যাচারের অভিযোগ (Minor Girl Assaulted In Delhi) উঠে এল। জানা গিয়েছে ট্রাফিক সিগন্যালে ফুল বিক্রি করা ১১ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ই-রিক্সাচালকের বিরুদ্ধে। অচৈতন্য অবস্থায় জঙ্গলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। অবশেষে দিল্লি পুলিশের তৎপরতায় গ্রেপ্তার অভিযুক্ত।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, গত ১১ জানুয়ারি দিল্লির প্রসাদনগরের যৌনপল্লি এলাকায় ১১ বছর বয়সি এক নাবালিকা রাস্তায়, ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে নিত্যদিনের মত গোলাপ ফুল বিক্রি করেছিলেন। তখনই সেখানে আসে দুর্গেশ নামের ৪০ বছরের এক টোটোচালক। যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পরে, সব ফুল বিক্রি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে নিজের ই-রিকশায় চাপিয়ে নিয়ে যায়। অভিযোগ, প্রফেসর রামনাথ ভিজ মার্গের কাছে একটি জঙ্গলে অভিযুক্ত কিশোরীর উপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। শারীরিক নির্যাতনে সংজ্ঞা হারায় নাবালিকা। এবং সেখানেই কিশোরীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
অবশেষে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
নির্জন জঙ্গলে দীর্ঘক্ষণ অজ্ঞান থাকার পর ওই নির্যাতিতার জ্ঞান ফিরলে কোনওমতে বাড়ি পৌঁছয় সে। তার ওইরকম শারীরিক অবস্থা দেখার পরেই সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ওই নির্যাতিতা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এলাকার প্রায় ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরেই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ অপহরণ, ধর্ষণ ও পকসো আইনে মামলা দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার, ওই অভিযুক্ত জেরায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: চিতাভষ্ম রয়েছে এই মন্দিরে, জন্মবার্ষিকীতে নেতাজির মৃত্যুর আসল কারণ জানালেন মেয়ে অনিতা
দিল্লির এই লজ্জাজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। অভিষেক লেখেন, “নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ বাংলায় এসে পরিবর্তনের কথা বলেন। কিন্তু পরিবর্তন শুরু হওয়া উচিত বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকেই। যে সরকার মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, পরিষ্কার জল-বায়ু দিতে পারে না, প্রাণঘাতী হামলা রুখতে ব্যর্থ, তাদের বাংলায় এসে ভোট চাওয়ার কোনও অধিকার নেই।”